মাটির তৈরি বিস্কুটই বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন

প্রতিদিন আমরা কতো খাবার অপচয় করি। যেখানে সেখানে খাবার ফেলে দিই। এই রেস্টুরেন্ট থেকে ওই রেস্টুরেন্টে ঢুঁ মারি। পছন্দসই না হলে অর্ধেক খাবার ফেলে রেখেই চলে আসি। আপনি যদি এই মুহূর্তে শোনেন, একটি দেশের মানুষের কাছে মাটির তৈরি বিস্কুটই বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। বিশ্বাস হবে কী?

এমনই এক পৃথিবী আমরা তৈরি করেছি যেখানে পৃথিবীর এক প্রান্তের মানুষ যখন শত শত খাবার অপচয় করছে, তখন আরেক প্রান্তের মানুষ ক্ষুধা নিবারনের জন্য আয়োজন করে মাটির সঙ্গে লবন মিশিয়ে তা রোদে শুকিয়ে বিস্কুট বানিয়ে সংরক্ষণ করছে। প্রচণ্ড ক্ষুধায় মাটির তৈরি অস্বাস্থ্যকর সেই বিস্কুটই তাদের পেট ভরাচ্ছে। কোনোভাবে বেঁচে থাকতে পারলেই তারা তৃপ্ত।

কোনো রূপকথা বলছি না। বলছি হাইতির কথা। যে দেশটির বেশিরভাগ মানুষের দৈনিক মাথাপিছু আয় ২ ডলারেরও কম। চরম দারিদ্র্য সীমায় তারা বাস করে। সে দেশের মানুষের কাছে ফল-মূলসহ যে কোনো পুষ্টিকর খাবার স্রেফ এক স্বপ্ন। পেট ভরানোই যেখানে কষ্টকর সেখানে পুষ্টির জোগান আসবে কোত্থেকে?

কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য্যের সেই কথাটি মনে পড়ে গেল। হাইতিতে তা যেনো আক্ষরিক অর্থেই ফলে গেছে। “ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্নিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি”। ক্ষুধার্ত মানুষের ব্যথার সাথে আর কোনো ব্যথার তুলনা চলে না। এই পৃথিবীতে রয়েছে কতশত দেশ ও নগর। কিন্তু জীবনের রূপ একেক জায়গায় একেক রকম।

আসুন, এবার হাইতির এই মাটির বিস্কুট তৈরির প্রক্রিয়া জেনে নিই। মূলত হাইতির মধ্য প্লাতেও এলাকায় পাওয়া হলুদ মাটি থেকেই তৈরি হয় এই বিস্কুট। বেশ লম্বা সময় ধরেই দেশটির গর্ভবতী নারীদের এই হলুদ মাটি খাওয়ানো হতো। বলা হতো এতে আছে ক্যালসিয়াম। সেই মাটির সঙ্গেই ভেজিটেবল তেল আর লবন মিশিয়ে তৈরি করা হয় একটি মসৃণ মিশ্রণ। সেই মিশ্রণ চামচের সাহায্যে পাতলা করে বিছিয়ে দেওয়া হয় গোলাকৃতিতে। তারপর শুকানো হয় কড়া রোদে। পুরোপুরি শুকিয়ে গেলেই সেই মাটির বিস্কুটই পরম তৃপ্তি নিয়ে খায় হাইতির সব বয়সী মানুষ।

হাইতিয়ান ডাক্তাররা সতর্ক করেছে, দীর্ঘ সময়ের জন্য এই মাটির বিস্কুট খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে অপুষ্টিতে মারা যেতে পারে মানুষ। কিন্তু কে শোনে কার কথা? জীবন তো সেখানে নিষ্ঠুর, নির্মম। ক্ষুধা পেটে নিয়ে তারা কীভাবে বাঁচবে? অন্য কোনো খাবার তো তারা কিনতে পারছে না। এই মাটির বিস্কুটই তাদের বেঁচে একমাত্র অবলম্বন। এই বিস্কুট তাদের অমৃতসম।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker