প্যারালাল ইউনিভার্সে হুবহু আপনার মতো আরেকজন মানুষ আছে!

প্যারালাল ইউনিভার্সে হুবহু আপনার মতো আরেকজন মানুষ আছে! তার আগে প্যারালাল ইউনিভার্স কী সেটা সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকতে হবে।

প্যারালাল ইউনিভার্স হলো বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে ঠিক আমাদের ব্রহ্মাণ্ডের মতোই আরও একটি বা একাধিক ব্রহ্মাণ্ড। সেখানকার প্রকৃতি, ভূমণ্ডল এমনকি প্রাণিজগৎও একেবারে আমাদেরই মতো। হুবহু আমাদেরই মতো দেখতে সবকিছু। একেবারে যেন আমাদের যমজ বিশ্ব। সেখানে হয়তো এখন আপনার সদৃশ আপনার মতো ই দেখতে কেউ একজন প্যারালাল ইউনিভার্স নিয়ে অতি আগ্ৰহ নিয়ে পড়ছে। অর্থাৎ, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোথাও না কোথাও একইরকমের কিছু সমান্তরাল মহাবিশ্ব রয়েছে, যারা একে অপরের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানে না। একেই সাধারণভাবে প্যারালাল ইউনিভার্স বলা হয়ে থাকে। আসুন এবার কয়েকটি ঘটনা জেনে নেওয়া যাক –

প্যারালাল ইউনিভার্স ঘটনা: ১

১৯৫৪ সাল। টোকিওর বিমানবন্দরে একজন অদ্ভুত মানুষকে আটকে দিয়েছে কাস্টমস। তিনি বলছেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং জাপানি এক কোম্পানির সাথে মিটিং করতে এসেছেন।

এ পর্যন্ত সব ঠিক থাকলেও সমস্যা বাধলো ইমিগ্রেশনে। ইমিগ্রেশনে সেই লোকের পাসপোর্ট চেক করতে গিয়েই কর্তৃপক্ষের চোখ ছানাবড়া। তার পাসপোর্টে যে দেশের নাম, সে দেশের কোনো অস্তিত্বই নেই। তার পাসপোর্ট থেকে জানা যায় তার নাম জেনাসফার। আর তার দেশের নাম কিংডম অফ টৌরেড।

নিজের দেশ সম্পর্কে তিনি জানান, ফ্রান্স ও স্পেনের মাঝামাঝি রয়েছে টৌরেড শহর। কিন্তু পৃথিবীর মানচিত্রে ফ্রান্স এবং স্পেনের মাঝে এমন কোনো দেশই নেই। শুধু তাই নয়, সে টোকিওততে যে হোটেলে রুম বুকিং দিয়েছে, টোকিও শহরে সেই নামে কোনো হোটেলও নেই।

এমনকি যে কোম্পানির সাথে তার মিটিং আছে বলছে, সেই নামেও জাপানে কোনো কোম্পানিও নেই। এ ঘটনায় এয়ারপোর্টের ইমিগ্রেশন অফিসাররা খুব অবাক হলো। তারা এই রহস্যময় লোকটিকে আটকে একটি কামরায় নিয়ে নজরদারিতে রাখলো, জব্দ করা হলো সাথে আনা ব্যাগ।

এর কাছ থেকে আরও তথ্য বের করতে হবে। কিন্তু লোকটা একদম স্বাভাবিক। তাকে দেখে মনে হচ্ছে সত্যি কথাই বলছে। তার কথায় কিংবা আচরণে সন্দেহ জাগার মতো কিছু নেই। কিন্তু আরও অবাক করা বিষয়টি ঘটলো পরদিন।

লোকটিকে যে ঘরে আটকে রাখা হয়েছিলো সেই ঘরে ঢুকে দেখা গেলো কিছুই নেই! ঘর সম্পূর্ণ ফাঁকা! শুধু তাই না, লোকটার সাথে আনা সেই ব্যাগটাও গায়েব। পড়ে আছে শুধু পাসপোর্ট! এরপর আর লোকটাকে কখনো দেখা যায়নি, কেউ তার কথা কোনোদিন শোনেওনি। এ ঘটনা নিয়ে আজ পর্যন্ত অনেক জল্পনা-কল্পনা হয়েছে।

লোকটার সাথের সেই পাসপোর্ট- ভিসার কাগজ পরীক্ষা কোনো ঝামেলা পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ মনে করে লোকটা হয়তো অন্য কোনো প্যারালাল ইউনিভার্স থেকে এসেছে। সেখানে হয়তো সত্যিই টৌরেড নামে কোনো দেশ আছে। আবার অনেকেই বলছে লোকটা ভবিষ্যৎ থেকে এসেছিল।

আবার কিছু লোকের ধারণা লোকটা প্রচণ্ড বুদ্ধিমান। মজা করে ঘোল খাইয়েছে ইমিগ্রেশনের অফিসারদের। হয়তো এয়ারপোর্টে তার কিছু পরিচিত লোক ছিল, যারা এই কাজে তাকে সাহায্য করেছে। তবে সত্যটা আজও কেউ উদঘাটন করতে পারেনি।

প্যারালাল ইউনিভার্স ঘটনা ২:

বিকাল চার টা বেজে বাইশ মিনিট, সেপ্টেম্বর ১২ ২০০৮ সাল। অ্যামেরিকার লস এঞ্জেলস এ মেট্রো লিঙ্কে একটা ট্রেন এর মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ২৬ জন মানুষ মারা যান। দুর্গম একটা জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটার ফলে এর কথা কেউই জানত না। সেদিন বিকেল পাঁচটায় একজন মহিলা পুলিশের কাছে কমপ্লেন করে যে তার স্বামীর নাম্বার থেকে অনবরত কল আসছে কিন্তু কল রিসিভ করলে কোন কথা বলছে না। এমন কি কোন ধরনের শব্দ শোনা যাচ্ছে না। পুলিশ এবং উদ্ধারকর্মী মিলে ফোন কল ট্র্যাক করে প্রায় ১১ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং ফোন কল ট্র্যাক করেই ঐ মহিলার স্বামীকে শনাক্ত করেন।

রহস্য হলো ওই ব্যক্তি ১১ ঘণ্টা আগেই মারা গিয়েছিলেন। এবং আরো বড় রহস্য হলো ফোন কল ট্রাক করে তাকে শনাক্ত করার পরে সেই সিগন্যাল হারিয়ে যায় এবং অনেক খুঁজেও সেই ফোনটি আর পাওয়া যায়নি। এখন প্রশ্ন এটা থেকে যায় যে ফোন কলটি কি তাহলে প্যারালাল ইউনিভার্সের অন্য পৃথিবীতে থাকা তার স্বামীর কাছ থেকে আসছিল? রহস্য রহস্যই থেকে গেছে।

প্যারালাল ইউনিভার্স কী সত্যিই আছে?

মাঝে মাঝে দুটো জগত একে অপরকে ক্রস করে ফেলে। তখনই আমাদের ডিজে ভু বা অল্টারভাস ঘটে। এবার হয়তো কিছুটা ক্লিয়ার হয়েছেন। বিজ্ঞানীরা মনে করেন এই ক্রসিং-এ সময়ের চাদরের একটা ছিদ্র হয়। আর এই ছিদ্র দিয়ে যে কেউ চুপচাপ ওই জগত থেকে এই জগতে চলে আসতে পারে। কেউ কেউ বলেন অন্য জগতে যাওয়ার জন্য দরকার হয় পোর্ট কি এর। এই পোর্ট কি কোন বস্তু, প্রাণী যে কোন কিছু হতে পারে। এই পোর্ট কি এর ধং বা মৃত্যু হলে তাকে পুনরায় ফিরে আসতে হয় আগের জগতে। কেন না পোর্ট কি ই পারে দুটো জগতের মধ্যে ক্রস ম্যাস করাতে। তো আপনি যখন নিজেই সেই পোর্ট কি হিসেবে সিলেক্টেড হবেন তখনই দেখতে পারে না অন্য প্যারালাল ইউনিভার্সের আপনাকে। প্যারালাল ইউনিভার্সে হুবহু আপনার মতো হয়তো কেউ রয়েছে যে এই লেখাটি আরো আগে পড়ে ফেলেছে। কোয়ান্টাম মেকানিক্স অলরেডি জানিয়ে দিয়েছে যে অসংখ্য জগত থাকা আসলেই সম্ভব। এখন শুধু নিজে নিজে প্রত্যক্ষ করার অপেক্ষা।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker