পৃথিবীর সবচেয়ে গোপনীয় ও রহস্যময় স্থান

আমাদের রহস্যময় পৃথিবীতে (প্রাকৃতিক বা অ-প্রাকৃতিক) রহস্যের সীমা নেই। এর মধ্যে আবার কিছু স্থান বা বিষয় রয়েছে যা অতি-প্রাকৃতিক। আর এ কারনেই এগুলো যুগ যুগ ধরে মানুষের কাছে হাজারো রহস্যে ঘেরা। পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় স্থান গুলো বিজ্ঞানীদের ব্যস্ত রাখে উত্তর খোঁজার কাজে, আর বিশ্ব আমাদের প্রতিনিয়ত বিস্মিত করে সেই সকল রহস্যের উদঘাটন করে।

Screenshot 20230511 185807
রক্তের ঝরণা (ব্লাড ফলস), এন্টার্কটিকা; Source: Wikipedia

১। রক্তের জলপ্রপাত (ব্লাড ফলস), এন্টার্টিকা: অনেক লোক বা বিজ্ঞানীই এটি চোখে দেখেননি। বা এর কোনো ছবিও না, তবে এটি বর্তমান । একদল গবেষক এ্যান্টার্টিকা মহাদেশে গিয়ে এটি দেখতে পান, এবং ছবি টি তোলেন। তাদের ধারনা ছিলো কোন অনুজীব এর ফলে এমন টা ঘটে, যদিও শূণ্যের অনেক নিচে হিম শীতল আবহাওয়াতে টিকে থাকা অনেক টা অসম্ভব একটা ব্যাপার । তারা এই উপসংহারে এসেছেন যে, রক্তরাঙা এই পানির উৎস হলো ভূগর্ভস্থ জলাশয় যেখানে লোহার আধিক্য রয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে যে, বরফের ১৩০০ ফিট নিচে উদ্ভিজ্জাণু বিদ্যমান যা লোহা এবং সালফার পূর্ণ পানির মধ্যে এখন টিকে আছে।

Screenshot 20230511 185942
ম্যাগনেটিক হিল, মঙ্কটন, নিউ ব্রান্সউইক; Source: Flickr

২। ম্যাগনেট পাহাড়, নিউ ব্রান্সউইক: পাহাড় এর মত উচু থেকে একটা বল বা গাড়ি যাই ছেরে দেয়া হোক, তা নিচের দিকেই নেমে যাবার কথা । উল্টোটা হলে মাথায় চিন্তা হওয়া টা স্বাভাবিক। এমনই এক জায়গা রয়েছে কানাডার প্রদেশ নিউ ব্রান্সউইক এর মঙ্কটন শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে, যা ম্যাগনেটিক হিল হিসেবে পরিচিত। ১৯৩০ সালে যখন ম্যাগনেটিক হিলের ঘটনা প্রচারণা লাভ করতে থাকে, তখন থেকে আজ পর্যন্ত এই স্থানের চুম্বকীয় ক্ষমতার পেছনের রহস্য উদ্ঘাটনের প্রচেষ্টা চলছে। প্রচলিত আছে ঘোড়ার গাড়িও টেনে নিতো উপর দিকে এই পাহাড়। এটি অবশ্য একটা পপুলার টুরিস্ট স্পট এখন।

Screenshot 20230511 185837
সার্টসি, আইসল্যান্ড; Source: Wikipedia

৩। Surtsey , আইসল্যান্ড: কেউ যদি আপনাকে জিগেস করেন নতুন কি আছে যা আগে ছিলো না, নিশ্চিন্তে এটিকে দেখিয়ে দেন, কেননা এটি আসলেই নতুন। ১৯৬৩ সালের আগে এখানে কিছুই ছিলো না, এমন কি পানির নিচে ডুবো পাহাড় ও না। এর পর একটি ভুমিকম্পের পর রহস্যজনক ভাবেই মাথা তুলে দারায় এটি। হতেই পারে কি বলেন? এই নতুন দ্বীপের নামকরণ করা হয় নোর্স পুরাণের আগুণের ইয়োটুন বা দৈত্য সার্টর এর নামানুসারে।

Screenshot 20230511 190014
রেলাম্পাগো ডেল কাতাতুম্বো (কাটাটুম্ব এর বজ্রপাত), ওলোগা, ভেনিজুয়েলা; Source: BBC.com

৪. Relampago del Catatumbo, Ologa, Venezuela: বাপরে, নাম তো উচ্চারনই করতে পারলাম না। ব্যাপার টা বুঝিয়ে বলি? বজ্রপাত সবাই চিনি। যাদের প্রেমিকা ভয় পান, তারা হয়তো একটু বেশি চেনে। আমাদের দেশে বছরে কতদিন আর এর দেখা পাই বলুন, দেখতে হলে তো যেতে হবে ভেনিজুয়েলাতে। এখানে বছরে ২০০ দিনের ও বেশি সময় বজ্রপাত হয়। তাও মাত্রা শুনবেন? কখনো কখনো মিনিটে ২৫ বার এর ও বেশি। বুঝতে পারছেন ব্যাপারটা? প্রতি স্কয়্যার কিলোমিটারে প্রতিবছর গড়ে ২৫০ বার বজ্রপাত, চিন্তা করুন একবার। আমাকে হলিউড স্টার হতে দিলেও আমি যাবো না এখানে। কিন্তু এত জায়গা থাকতে এখানেই কেনো? উহু সরি, কারণ কেউ জানে না, সো বলতে পারলাম না।

Screenshot 20230511 185905

৫.বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল (The Bermuda Triangle, Atlantic Ocean): পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় স্থান এর নামগুলোর মধ্যে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল কে সবার আগে রাখা উচিত। বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল যা শয়তানের ত্রিভূজ নামেও পরিচিত, আটলান্টিক মহাসাগরের একটি বিশেষ অঞ্চল, যেখান বেশ কিছু জাহাজ ও উড়োজাহাজ রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হওয়ায় কথা বলা হয়। অনেকে মনে করেন ঐ সকল অন্তর্ধানের কারণ নিছক দূর্ঘটনা, যার কারণ হতে পারে প্রাকৃতিক দূর্যোগ অথবা চালকের অসাবধানতা। চলতি উপকথা অনুসারে এসবের পেছনে দায়ী অতি-প্রাকৃতিক কোনো শক্তি বা ভিনগ্রহের প্রাণীর উপস্থিতি। জায়গাটির রহস্যময়তা নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে বানানো হয়েছে অসংখ্য ডকুমেন্টারিও। পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথা শোনা যায়।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker