ডলার কি সত্যিই ইউয়ানের কাছে হেরে যাচ্ছে

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কও শেষ পর্যন্ত বিরক্তি প্রকাশ করলেন। ‘আপনি যদি মুদ্রাকে অস্ত্র হিসেবে বারবার ব্যবহার করেন, তাহলে অন্য দেশগুলো এর ব্যবহার বন্ধ করে দেবে’-ঠিক এভাবেই বলেছেন মাস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের ব্যবহার কমছে, একজন অর্থনীতিবিদ এমন মতামত দেওয়ার পর এক টুইটে টেসলা আর টুইটারের মালিক এ মন্তব্য করেন। ‘ডি-ডলারাইজেশন’ বা আর্থিক ব্যবস্থা ‘ডলার মুক্ত’ করার বিষয়ে বিশ্বজুড়ে যে আওয়াজ উঠেছে, সে ব্যাপারে মতামতটি দিয়েছিলেন হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের পিটার সেইন্ট অনজ।

পিটার সেইন্ট অনজ মনে করেন, ‘ডি-ডলারাইজেশন এখন বাস্তব এবং এটি খুব জোরেশোরেই ঘটছে।

শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা মোটামুটি একমত, ডি-ডলারাইজেশন ঘটলেও ডলারকে হটাতে পারে, এমন সম্ভাব্য মুদ্রাগুলোর কোনো না কোনো দুর্বলতা রয়েছে। স্টিভেন জেন মনে করেন, বিশ্ববাণিজ্য–ব্যবস্থা থেকে ডলার হটানোর চেষ্টা খুব তাড়াতাড়ি সফল হবে না। তাঁর মতে, ইউয়ান ও ইউরো ডলারের রাজত্বে ভাগ বসাবে এবং রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে একটি ‘তিন মেরু’ব্যবস্থার উদ্ভব ঘটবে।

ডলার নিয়ে এসব আলোচনা-বিতর্ক জোরালো হয়েছে মূলত স্টিভেন জেনের বক্তব্যের সূত্র ধরে। এপ্রিল মাসে তিনি একটি গবেষণা নোট প্রকাশ করে বলেন, রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে ২০২২ সালে ডলারের ‘বিস্ময়কর পতন’ ঘটেছে।

ডলারের আধিপত্য ভাঙা, অর্থাৎ বিশ্ব আর্থিক ব্যবস্থাকে ডলারমুক্ত করার কথা এখন জোরেশোরে বলা হচ্ছে। চেষ্টারও কমতি নেই। তবে তা কতটা সম্ভব, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker