কলেরার ঝুঁকিতে শত কোটি মানুষ: জাতিসংঘ

জাতিসংঘের স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, ৪৩টি দেশের ১০০ কোটি মানুষ কলেরার ঝুঁকিতে রয়েছে। কলেরার অস্বাভাবিক উচ্চ মৃত্যুর অনুপাতও উদ্বেগজনক অবস্থায় আছে। বৈশ্বিক সংস্থাটি বলছে, প্রতিরোধ ও চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ হওয়া সত্ত্বেও এই ‘মহামারি গরিবদের হত্যা করছে’।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) নতুন এক সতর্কবার্তায় বলেছে, ইতোমধ্যে অনেক দেশে কলেরার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। ক্রমবর্ধমান আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। জাতিসংঘ এই পূর্বাভাসকে অশনিসংকেত হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

শুক্রবার জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডব্লিউএইচও’র ইনসিডেন্ট ম্যানেজার হেনরি গ্রে এই তথ্য নিশ্চিত করে আরও বলেন, যেসব দেশের লোকজন কলেরার ঝুঁকিতে আছেন, সেসব দেশে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে চলতি বছরই তাদের এই ঝুঁকি থেকে বের করে আনা সম্ভব।

হেনরি গ্রে জানান, এই রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে তাদের হাতে পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। এই মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করতে যত দেরি হবে, পরিস্থিতির তত অবনতি হবে। সম্মেলনে তহবিল গঠনের জন্য ধনী ও দাতা দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

ডব্লিউএইচওর এই কর্মকর্তা কলেরার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার জন্য দারিদ্র্য, সংঘাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি এসব কারণে মানুষের বাস্তুচ্যুতিকেও দায়ী করেছেন। বাস্তুচ্যুতি লোকজনকে খাদ্য ও পানির নিরাপদ উৎস এবং চিকিৎসাসেবা থেকে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। হেনরি বলেন, ‘চলতি বছর বিভিন্ন দেশ আমাদের কাছে প্রায় ২ কোটি ডোজ কলেরার মুখে খাওয়ার টিকা (ওর‌্যাল ভ্যাক্সিন) চেয়ে অনুরোধ জানালেও আমাদের কাছে আছে মাত্র ৮০ লাখ ডোজ টিকা।’

তিনি আরো বলেন, কলেরা সম্পূর্ণ প্রতিরোধের জন্য একজন ব্যক্তিকে অন্তত ২ ডোজ টিকা গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু টিকার স্বল্পতার কারণে আমরা বিভিন্ন দেশকে অনুরোধ জানিয়েছি- তারা যেন আপাতত এক ডোজ করে টিকা দেন লোকজনদের।

সংবাদ সম্মেলনে পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি বিভাগের প্রধান জেরোমি পাফমান জামব্রুনি বলেন, এখন থেকেই কলেরা নির্মূলেকাজ শুরু না করলে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে মোড় নেবে বলে।

গত বছর মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে সারাবিশ্বে কলেরার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল। তবে তার ব্যাপ্তি ছিল কম। ২০২২ সালের মে মাসে ১৫টি দেশে দেখা দিয়েছিল কলেরা।

জাতিসংঘের দুটি সংস্থা ডব্লিউএইচও ও ইউনিসেফ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। এখন শুধু বৈশ্বিকভাবে সম্মিলিত তহবিল প্রয়োজন। সূত্র: ইউএন নিউজ

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker