ওডিশায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৩৮ জন।

ভারতের ওডিশায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৩৮ জন। আহত হয়েছেন ৯০০ এর অধিক মানুষ। এমনকি এখনো ট্রেনের ভেতরে অনেকে আটকা পড়ে আছেন। একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। তাই নিহত মানুষের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আজ শনিবার এক দিনের শোক ঘোষণা করেছেন ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক। তিনি দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। উদ্ধারকাজে ভারতের বিমানবাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ভারতের ওড়িশার বালেশ্বরে ট্রেনের লাইনচ্যুত হয়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ওডিশার মুখ্যসচিব প্রদীপ জেনা বার্তা সংস্থা এএনআইকে শনিবার হতাহতের সংখ্যা জানিয়েছেন।

ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে ওডিশার মুখ্যসচিব প্রদীপ বলেন, “উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে এবং আশেপাশের জেলার সকল হাসপাতালকে অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। তিনটি এনডিআরএফ, চারটি ওডিশা ডিজাস্টার র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ইউনিট। ১৫টি ফায়ার রেসকিউ টিম প্রস্তত আছে। ৩০ জন চিকিৎসক, ২০০ জন পুলিশ সদস্য এবং ৬০ টি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে জড়ো করা হয়েছে।

এই শতকে এটি ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।

এর আগে ভারতের রেলবিভাগ জানায়, প্রথমে করমন্ডল এক্সপ্রেস নামের একটি যাত্রীবাহী ট্রেন – যা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হাওড়ার নিকটবর্তী শালিমার থেকে তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাই যাচ্ছিল – সেটির কয়েকটি বগি লাইনচ্যূত হয় এবং পাশের লাইনে থাকা আরেকটি দ্রুতগামী যাত্রীবাহী ট্রেন সেগুলোকে আঘাত করে। দ্বিতীয় ট্রেনটি বেঙ্গালুরু থেকে হাওড়া যাচ্ছিল। এর পর দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রেনের সঙ্গেও যাত্রীবাহী ট্রেনগুলোর ধাক্কা লাগে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ঘটনায় মর্মাহত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি তাঁর সমবেদনা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, রেল মন্ত্রণালয় প্রদেয় অর্থের বাইরে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (পিএমএনআরএফ) থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২ লাখ রুপি করে এবং আহত ব্যক্তিদের ৫০ হাজার রুপি করে দেয়া হবে।

প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় প্রাণ যাচ্ছে সাধারণ মানুষের। একটি গবেষণা থেকে জানা যায় কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে অধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায়। আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদের মতে ত্রুটিযুক্ত সড়ক ব্যবস্থাপনার দরুন এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। আঞ্চলিক সরকারের উচিত সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নতি ঘটানো এবং ট্রাফিক শৃঙ্খল সুনিশ্চিত করা। এ দাবি করে থাকেন আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীরা।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker