রাসুল (সা.) কে স্বপ্নে দেখার আমল কী?

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.), তিনি নবীদের সর্দার এবং কিয়ামত পর্যন্ত আগত সব মানুষ ও জিনের জন্যও তিনি নবী। চরিত্রের দিক দিয়ে যেমন রাসূল (সা.) এর সমকক্ষ কেউ ছিল না তেমনি দৈহিক গঠনের দিক দিয়েও নয়। ফলে পৃথিবীর মহা মানব হিসেবে কেমন ছিল তাঁর দৈহিক সৌন্দর্য এবং গঠন এটা জানার আকাঙ্ক্ষা কম বেশি আমাদের সবারই আছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে আমাকেই দেখল। কারণ শয়তান কখনো আমার রূপ ধারণ করতে পারে না। যে ব্যক্তি আমার উপর মিথ্যাচার করলো, সে তার দোযখের আসন গ্রহণ করল। (বুখারী:১০০) আমাদের মধ্যে অনেকেই রাসুল (সা.) কে স্বপ্নে দেখার আমল করতে চাই, কারণ তার দর্শন লাভের আশা কে না করে।

একটি হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে আমাকে (রাসুল সা.) স্বপ্নে দেখল, শিগগিরই সে আমাকে জাগরণে দেখবে অথবা সে যেন আমাকে জাগরণেই দেখল। আর শয়তান আমার রূপ ধরতে পারে না। (সহিহ মুসলিম : ২২৬৬)

ইসলামের ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, অনেক সাহাবি, তাবেঈ ও বুজুর্গরা নবী (সা.) কে স্বপ্নে দেখেছেন। তাকে স্বপ্নে দেখেছিলেন- ইমাম আবু হানিফা, আবদুর রহমান জামি, জালালুদ্দীন রুমি, শেখ সাদি, সাদুদ্দীন তাফতাজানি। হজরত শাহ ওলিউল্লাহ দেহলভি, আবদুল আজিজ, শায়খ জাকারিয়াসহ অসংখ্য নবীপ্রেমিক (রহ.)। বর্ণিত আছে যে, ইমাম মালেক (রহ.) অধিকাংশ রাতেই নবী করিম (সা.) কে স্বপ্নে দেখতেন।

মনে রাখতে হবে, যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসেন, সবকিছুতে তাঁকে অনুকরণ-অনুসরণ করেন, সবসময় তাঁর সাক্ষাতের প্রতীক্ষায় থাকেন, কেবল সেই ব্যক্তিই তাঁকে স্বপ্নে দেখার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারেন। তাই আমরা বলতে পারি, পূর্ণ ইসলাম পালনকারী ও সুন্নতের অনুসারীরাই কেবল রাসুলুল্লাহ (স.)-কে দেখতে পারেন। রাসূল (সা.) কে স্বপ্নে দেখার জন্য মন থেকে অধিক পরিমাণ দুরুদ শরীফ পাঠ করতে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর সুন্নাতের তরিকা অনুযায়ী নিজেকে সাজাতে হবে। (ফতোয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত: ২/২৩৪)

তাছাড়া আরেকটি পরীক্ষিত আমল রয়েছে। তা হল রাত্রে ঘুমানোর পূর্বে সূরা ইখলাস পবিত্রতার সহিত তেলাওয়াত করে ঘুমাতে হবে। আল্লাহর কাছে বেশি বেশি প্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহ প্রত্যেক মুসলিমের মনের আশা পূর্ণ করুক। আমিন।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker