রাগ সংবরণ করা ও ক্ষমা করা উত্তম ইবাদত

মানবজীবনের ভয়ানক এক ব্যাধি হলো রাগ। রাগের বিধ্বংসী ক্ষমতা অত্যন্ত ব্যাপক। এটি মানুষকে শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিকভাবে বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন করে।
রাগ ইসলামে হারাম। রাসুল (সা.) নিষেধ করেছেন, ‘রাগ করো না তোমরা, রাগ করো না, রাগ করো না।’ এভাবেই বারবার নিষেধ করেছেন তিনি। ইসলাম বলছে, রাগ সংবরণ করা ও ক্ষমা করা ইবাদত।

অনিয়ন্ত্রিত রাগ মারাত্মক ক্ষতিকারক। জ্ঞানীরা বলেন, রাগ হলো বারুদের গুদামের মতো। আগুনের স্ফূলিঙ্গের ছোয়ায় যেনো সব কিছু ধ্বংস করে দিতে পারে এই রাগ। যদি কারো রাগ এসে যায়, তাহলে ইসলাম এই রাগকে যেভাবে হোক প্রশমন করার জন্য, রাগ থেকে নিজেকে মুক্ত করার জন্য বলেছে। শয়তানের কারণেই মূলত এই রাগের উদ্ভব ঘটে। শয়তান যদি কোনোভাবে এই রাগ তৈরি করে থাকে অথবা কোনো বিষয়ে তাঁকে প্রলুব্ধ করে, তখন সেখান থেকে মূলত রাগের উদ্ভব হয়। তাই নবী (সা.) যেটি পছ্ন্দ করেছেন, সেটি হচ্ছে, ‘আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করা।’ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে ইশতেহাদা করা। আর এটাই হচ্ছে রাগ নিয়ন্ত্রণের প্রথম ধাপ।

আউযুবিল্লাহিমিনাশ শায়তনির রাজিম পড়তে হবে। এর পর যদি দেখা যায় যে, রাগ কমে গেছে, তাহলে ভালো। আর যদি রাগ না কমে, তাহলে এটা বলা হয়েছে যে, তিনি অজু করতে পারেন। অজু করতে পারলে রাগ কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। যদি দেখেন তাতেও রাগ কমছে না, তাহলে সে সময় যে অবস্থায় থাকবেন তা থেকে অন্য অবস্থায় চলে যাওয়া। যেমন- দাঁড়িয়ে থাকলে বসে পড়া। এরকম ভাবে অবস্থার পরিবর্তন হলে মানুষের মনের মধ্যে স্বাভাবিকভাবে রাগ আসলে যে অবস্থা তৈরি হয়ে থাকে, সেখান থেকে কিছুটা হালকা হতে পারে।

রাসুল (সা.) রাগ থেকে আল্লাহর বান্দাকে বিরত থাকতে বলেছেন। কারণ, রাগ এমন একটা অবস্থা যে, এর মাধ্যমে তাঁর যত হাসানাত বা ভালো কাজ আছে, সবগুলোকে নষ্ট করে দিতে পারে, ভস্মীভূত করে দিতে পারে।

আমাদের সমাজে অনেক ব্যক্তি আছেন যারা রাগ হলেই অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। এটা খুবই নিকৃষ্ট একটি কাজ। মনে রাখতে হবে কোনো সভ্য মানুষ অন্যকে গালি দেয় না, অশ্রাব্য ভাষার প্রয়োগ করে না। রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে গেলেও মার্জিত শব্দ ব্যবহার করতে হবে।

আল্লাহর ক্ষমা ও কল্যাণ পেতে হলে তাঁর বান্দাকে ক্ষমা করতে হবে। যারা সচ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষকে ক্ষমা করে, বস্তুত আল্লাহ তাদেরই ভালোবাসেন।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৪)

নবী (সা.) প্রচুর আত্মসংযম ও ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিয়েছেন, যখন তাঁকে অপমান, অপদস্থ ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছিল। কই আমাদের নবী (স.) তো রেগে যাননি। রাগ নিয়ন্ত্রণ আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে। যে ব্যক্তি রাগ নিয়ন্ত্রণ করে, সে আধ্যাত্মিকভাবে এবং জাগতিকভাবে পুরস্কৃত হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য বান্দার রাগ সংবরণ করা তে যে মহান প্রতিদান রয়েছে, তা অন্য কোনো কিছুতে নেই।’ (ইবনে মাজাহ: ৪১৮৯)।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker