যে সময়ের ইবাদতে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি খুশি হন

মানুষের সৃষ্টি আল্লাহর ইবাদতের জন্য। আর আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি হলো ইবাদতে মশগুল থাকা মুমিন বান্দা। মুমিনের জীবনের প্রত্যেকটা মূহুর্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কিছু বিশেষ সময় বা মুহূর্ত আছে যেগুলোর প্রতি মহান আল্লাহ অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। সেসব সময়ের ইবাদত মানুষের ইহকাল ও পরকালকে আরো কল্যাণময় করে তোলে। যে সময়ের ইবাদতে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি খুশি হন সে সময়গুলো আপনার জেনে নেওয়া জরুরী।

১. রাতের শেষ ভাগের ইবাদত

আমর ইবনে আবাসা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রাতের শেষ ভাগে মহান প্রভু আল্লাহ বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন। সুতরাং তুমি এই সময় আল্লাহর স্মরণ করতে পারলে তা করো।’ (বুখারি, হাদিস : ১১৪৫)

রাসুলের (সা.) এর কাছে একদা সাহাবায়ে কেরামের এক জামাত আবদুল্লাহ ইবনে উমরের (রা.) প্রশংসা করলে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কতইনা প্রসংশনীয় সে ব্যক্তি যে তাহাজ্জুদ পড়ে রাতের শেষ ভাগে। (বুখারি ও মুসলিম)

আল্লাহ তায়ালা তাহাজ্জুদের আদেশ করতে গিয়ে ইরশাদ করেন, তোমরা রাতের শেষ ভাগে তাহাজ্জুদ আদায় কর। (সূরা বনি ইসরাঈল ৭৯)

হাদিস শরীফে বর্নিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তিন প্রকারের আওয়াজ আল্লাহ তায়ালার কাছে খুবই প্রিয়। সেগুলো হলো-

ক. ভোর বেলায় মোরগের ডাক। খ. কুরআন তেলাওয়াতের আওয়াজ। গ. শেষ রজনীতে ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের কান্নাকাটির আওয়াজ।

২. সকাল-সন্ধ্যার ইবাদত

মহান আল্লাহ সকাল-সন্ধ্যাকেও ইবাদতের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে তৈরি করেছেন। পবিত্র কোরআনে দাউদ (আ.) সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, ‘আমি (আল্লাহ) নিয়োজিত করেছি পর্বতকে, যাতে তারা সকাল-সন্ধ্যায় তার সঙ্গে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। এবং সমবেত বিহঙ্গকুলকেও। সবাই ছিল তার অনুগত।’ (সুরা সদ, আয়াত : ১৮-১৯)

এই আয়াত দ্বারা স্পষ্ট বোঝা যায়, সকাল-সন্ধ্যায় শুধু মানুষই নয়। গোটা সৃষ্টি জগৎই আল্লাহর ইবাদাতে নিয়োজিত থাকে। সুতরাং এই দুটি সময়ও মুমিনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৩. আজানের সময়

আজানের সময় মুমিনের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন মুয়াজ্জিন আজান দেয়, আসমানের দুয়ার খুলে যায় এবং দোয়া কবুল হয়।’ (মাজমাউজ যাওয়ায়েদ, হাদিস : ১৮৮৪)

৪. সিজদার সময়

সিজদা বান্দাকে আল্লাহর অধিক নিকটে নিয়ে যায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সিজদারত বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী। সুতরাং সে সময় বেশি বেশি দোয়া করো।’ (মুসলিম, হাদিস : ৪৮২)

যে সময়ের ইবাদতে আল্লাহ খুশি হন তার মধ্যে ইকামত, সৈন্য সমাবেশ ও বৃষ্টির সময়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই মুহূর্তগুলোর প্রতি অধিক নজর দেবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা দোয়া কবুলের সুযোগ সন্ধান করো সৈন্য সমাবেশ, নামাজের ইকামত ও বৃষ্টি বর্ষণের সময়।’ (বায়হাকি)

কোনো বান্দা আল্লাহকে ডাক দিলে তিনি ফেরেশতাদের কাছে তাঁর খুশি প্রকাশ করেন। নামাজে সুরা পাঠ করলে তিনি ফেরেশতাদের বলতে থাকেন, তোমরা দেখ আমার বান্দা আমার প্রশংসা করছে।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker