যেসব কারণে আল্লাহর গজব আসে

মাঝে মাঝে বিভিন্ন ভাইরাস, রোগব্যাধি, ভূমিকম্প, ঝড়-তুফান, বন্যা, খরা, অনাবৃষ্টি, দুর্ভিক্ষ কিছুদিন পরপর জানান দেয়। মানুষ যখন পাপ করতে করতে পাপের সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখনই আল্লাহর শাস্তি নাজিল হয়। এই পাপের জন্যই বিভিন্ন আজাব ও মহামারী নেমে আসে বলে হাদিসে উল্লেখিত হয়েছে। যেসব কারণে আল্লাহর গজব আসে তা শুধু মানুষের কৃতকর্মগুলোর জন্যই।

নেক আমল আলোর ন্যায়। আলো চলে গেলে অন্ধকার তো আসবেই। হাদিস থেকে বোঝা যায়, যিনা-ব্যভিচার, মদ্যপান, তরকে সালাত, তরকে জাকাত ইত্যাদি মারাত্মক গোনাহের কারণে সমাজ ও দেশে কোনো কোনো সময় মহাদুর্যোগ, মহাবিপদ নেমে আসে। এক আজাব অন্য আরেক আজাবকে টেনে আনে। যেমন, অনাবৃষ্টি হলে উৎপাদন থাকবে না। কৃষি ধ্বংস হয়ে যাবে। আর কৃষি ধ্বংস হলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অচল হয়ে পড়বে। যার ফলে দেশে চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারীদের সংখ্যা অধিকহারে বেড়ে যাবে। সমাজে শুধু অশান্তি বিস্তার করবে। পারস্পরিক মায়া-মহব্বত, সাহায্য-সহযোগিতা বলতে কিচ্ছু থাকবে না। থাকবে শুধু হানাহানি, মারামারি। ধ্বংসযজ্ঞ চলতে থাকবে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন- ‘মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও জলে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। এর পরিণামে তিনি কর্মের শাস্তির স্বাদ তাদের ভোগ করাবেন, যাতে তারা আল্লাহর দিকে ফিরে আসে’ (সূরা আর রুম : ৪১)। অন্য আরেকটি আয়াতে বলেন ‘আর তোমাদের কৃতকর্মের কারণই তোমাদের ওপর বিপদ নেমে আসে। অথচ তিনি অনেক কিছুই উপেক্ষা করে থাকেন’ (সূরা আশ শুরা : ৩০)।

মহানবী (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও মহামারী ব্যাপক আকার ধারণ করে, যা তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে ছিল না।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০১৯)

সাইয়িদুনা আলি ইবনু আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যখন আমার উম্মত ১৫টি অপকর্মে লিপ্ত হবে, তখন তাদের ওপর বিভিন্ন বালা-মুসিবত, আজাব-গজব আসতে শুরু করবে। যেসব কারণে আল্লাহর গজব নাজিল হয় সেগুলো হলো:
১. যখন গনিমতের মাল (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) ব্যক্তিগত সম্পদে পরিণত করবে,
২. আমানতের সম্পদ পরিণত হবে ব্যক্তিগত সম্পদে,
৩. জাকাত আদায় করাকে জরিমানা মনে করা হবে,
৪. স্বামী স্ত্রীর অনুগত হবে,
৫. সন্তান মায়ের অবাধ্য হবে,
৬. মা-বাবার পরিবর্তে বন্ধুবান্ধবকে সম্মান করা হবে,
৭. বাবার প্রতি জুলুম করা হবে,
৮. নিকৃষ্ট ব্যক্তিদের নেতা বানানো হবে,
৯. পুরুষ লোকেরা রেশমি (সিল্কি) কাপড় পরিধান করবে,
১০. মসজিদে উচ্চস্বরে হট্টগোল করা হবে,
১১. কোনো ব্যক্তিকে সম্মান করা হবে তার অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য,
১২. বাদ্যযন্ত্র তৈরি করা হবে,
১৩. প্রকাশ্যে মদপান করা হবে,
১৪. গায়িকা তৈরি হবে,
১৫. উম্মতের পূর্ববর্তী মহামনীষীদের প্রতি অভিসম্পাত করবে পরবর্তীরা,

এসব কাজ যখন জমিনে শুরু হবে, তখন তোমরা অগ্নিবর্ষী প্রবল ঝড়, ভূমিকম্প ও কদাকৃতিতে রূপান্তরিত হওয়ার অপেক্ষা করবে। [তিরমিজি, আসসুনান : ২২১১]

আমরা যত উন্নতিই করি না কেন, মহান আল্লাহর করুণা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। আমাদের উচিত ছোট-বড় সব ধরনের পাপ থেকে দূরে থাকা। সবসময় আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে এবং কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে।

আল্লাহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বালা মুসিবত, গজব নাজিল করে আমাদেরকে বারবার সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। এরপরও যদি আমরা দ্বীনের পথে ফিরে না আসি, কোরআনভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে না তুলি, তবে আরো ভয়ংকর আজাব আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে যা আমাদের কল্পনার বাইরে।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker