রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর অজানা কিছু কথা

টালমাটাল সত্তরের দশকে সমাজ ও রাজনীতির উত্থান-পতনে ত্যাগ ও প্রাপ্তি, ধ্বংস ও বিনির্মাণ, প্রত্যাশা ও আশাভঙ্গের অনিবার্য অস্থিরতার সময়টিতে যারা কলম চালিয়েছিলেন, যারা সেই সময়টাকে আত্মোপলব্ধি করেছিলেন এবং তাঁদের সৃষ্টিশীল উন্মাদনার দ্বারা এক চিরন্তন প্রতীতি প্রদান করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম কবি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ। আজ আমরা সেই রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর অজানা কিছু কথা জানবো।

১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর জন্ম নেয়া রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন প্রয়াত বাংলাদেশী কবি এবং গীতিকার। তিনি প্রতিবাদী রোম্যান্টিক কবি হিসেবে খ্যাত। আশির দশকে কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠে যে কজন কবি বাংলাদেশী শ্রোতাদের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছিল রুদ্র তাঁদের অন্যতম। তিনি তার কবিতাকে মানুষের হৃদয়ের কাছে পৌছে দিতেও সমর্থ হয়েছিলেন।

তাঁর জনপ্রিয় কবিতার মধ্যে রয়েছে “যে মাঠ থেকে এসেছিল স্বাধীনতার ডাক, সে মাঠে আজ বসে নেশার হাট”, “বাতাসে লাশের গন্ধ”। তাঁর ৩৪ বছরের স্বল্পায়ু জীবনে তিনি সাতটি কাব্যগ্রন্থ ছাড়াও লিখেছেলিন একাধিক গল্প, কাব্যনাট্য। রচনা করেছিলেন ‘ভালো আছি ভালো থেকো’ সহ অর্ধ শতাধিক গান।

১৯৮১ সালের ২৯ জানুয়ারি ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন আলোচিত এবং সমালোচিত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে। ১৯৮৮ সালে তাদের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে।

তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ আরো মুক্ত জীবন যাপন করতে শুরু করেন। কোনো কিছুই সুনিয়ন্ত্রিত ছিলো না। তিনি খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম করতেন। নিজের স্বাস্থ্যরক্ষার প্রতি তিনি ছিলেন অমনোযোগী। মদ্যপানের অভ্যাস ছিল। সিগারেটের প্রতি প্রবলভাবে আসক্ত ছিলেন। ফলে তার পাকস্থলিতে তৈরি হয়েছিল ক্ষত।

রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর অজানা ক্ষোভ নিয়ে ১৯৯১ সালের ২১ জুন সকল ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের কাঁদিয়ে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন।

এই কবির স্মরণে বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার মোংলার মিঠেখালিতে গড়ে উঠেছে “রুদ্র স্মৃতি সংসদ”।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker