হেডফোন ব্যবহারে কী ক্ষতি ডেকে আনছেন আপনার শরীরে?

প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে আমাদের জীবনধারাও আপডেট হচ্ছে। প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে নিত্যনতুন উপকরণ। এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেই তার সাথে একটি হেডফোনও থাকা চাই। অনেকেই একঘেয়েমি কাটাতে হেডফোনে গান শোনেন। কেউ বা অফিসে কাজ করতে করতে, কেউ অনলাইন ক্লাসে, কেউ অবসরে, প্রিয়জনের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে ব্যবহার করছে হেডফোন। মোটকথা হেডফোন ছাড়া গতি নেই। জানেন, এই হেডফোন ব্যবহারে কী ক্ষতি ডেকে আনছেন আপনার শরীরে?

যদি ঘন ঘন হেডফোন ব্যবহার করা আপনার অভ্যাস হয় তাহলে এখনই সতর্ক হন। কারণ গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘক্ষণ হেডফোন ব্যবহারের ফলে হতে পারে মারাত্মক সমস্যা। আসুন জেনে নিন, দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহারের ফলে কী কী ক্ষতি হতে পারে-

১. হেডফোনে একনাগাড়ে গান শুনলে শ্রবণ ক্ষমতা ৪০-৫০ ডেসিবেল কমে যায়। কানের পর্দা কাঁপে। দূরের আওয়াজ শুনতে অসুবিধা হয়। এমনকি শ্রবণশক্তি চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

২. যেকোনো স্থানে হেডফোন ফেলে রাখলে এয়ারপ্যাড সংক্রমিত হতে পারে। যা পরে কানের সংক্রমণ ঘটায়।

৩. অনেকেই হেডফোনে গান শুনতে শুনতে বা কথা বলতে বলতে রাস্তা পার হন। আর একারণে মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা। তাই যদি কানে একান্তই হেডফোন রাখতে হয় তাহলে অবশ্যই ফুটপাথ দিয়ে পথ চলবেন।

৪. হেডফোন থেকে সৃষ্ট ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ মস্তিষ্কের জন্য গুরুতর বিপদ ডেকে আনতে পারে। ব্লুটুথ হেডফোন ব্যবহারকারীদের এক্ষেত্রে ঝুঁকি একটু বেশি। মনে রাখবেন, কানের সঙ্গে মস্তিষ্কের যোগাযোগ সরাসরি।

৫. হেডফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে কানে দেখা দিতে পারে নানাবিধ সমস্যা। কানে ব্যাথা, মাথা ধরার মতো উপসর্গও দেখা দেয়। বিশেষ করে তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ ভুগছে এই সমস্যায়।

কী করবেন তাহলে?

হেডফোন ব্যবহার করুন কিছু নিয়ম মেনে। এতে জীবন ও কান দুটোই বাঁচবে। হেডফোন ব্যবহারের এমন কিছু নিয়ম রয়েছে, যা অন্তত কিছুটা হলেও আপনাকে শারীরিক ক্ষতি থেকে বাঁচাবে। হেডফোন ব্যবহারে কী ক্ষতি হচ্ছে তা দেরিতে বোঝার আগেই সতর্ক হন।

১. হেডফোন যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করুন। যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে কাজ করতে হয়, তা হলে সেক্ষেত্রে ৫ মিনিট করে বিরতি নেওয়া দরকার।

২. হেডফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে এর কোয়ালিটির দিকে নজর রাখুন। অনলাইন থেকে হেডফোন না কেনাই ভাল। এক এক জনের কানের গ্রন্থির আকার, গঠন এক এক রকম হয়। তাই সামনে থেকে ব্যবহার করে দেখে কেনা ভাল।

৩. কম ভলিউম দিয়ে হেডফোন ব্যবহার করুন।

৪. অন্যের হেডফোন ব্যবহার না করাই শ্রেয়। এতে কানে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়তে পারে।

৫.হেডফোন যেখানে সেখানে ফেলে না রেখে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখুন।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker