জেনে নিন স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির উপায়

এই নিবন্ধটিতে ক্লিক করেছেন মানে আপনার স্মৃতিশক্তি দুর্বল কিংবা আপনার স্মৃতিশক্তি নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট নন; স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির উপায় জানতে চান। রাস্তায় কাউকে দেখে চেনা চেনা লাগে কিন্তু কোথায় দেখেছেন তা মনে করতে পারেন না, কাউকে চেনেন কিন্ত তার নামটা মনে করতে পারছেন না, চাবি কোথায় রেখেছেন মনে করতে পারছেন না, বারবার পড়ছেন তবুও মুখস্থ হচ্ছে না। এরকম সমস্যা আজকাল অধিকাংশের মধ্যে দেখা যায়। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো স্মৃতিশক্তি উন্নত করা।

জানেনইতো স্মৃতিশক্তি মানুষের বড় সম্বল। এই শক্তি ছাড়া মানুষ জড় পদার্থের সমান। আর বয়স যত বাড়ে স্মৃতিশক্তি তত হ্রাস পেতে থাকে। বর্তমানে অল্প বয়সীদের মধ্যেও এর প্রভাব পড়ছ। এখন প্রশ্ন হলো, এর থেকে মুক্তির উপায় কী? হ্যাঁ, বহু উপায় রয়েছে। তাই বিভিন্ন গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জেনে নিন কিছু সতর্কতা এবং দারুন সব উপায়।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির উপায়

১. পর্যাপ্ত ঘুম: পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব দুর্বল স্মৃতিশক্তির সঙ্গে যুক্ত। ঘুম স্মৃতির একত্রীকরণে অত্যাবশ্যক ভূমিকা পালন করে। এটি এমনই একটি প্রক্রিয়া যেখানে স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি শক্তিশালী হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিতে রূপান্তরিত হয়। আপনি যদি ঘুম থেকে বঞ্চিত হন তবে আপনার স্মৃতিশক্তিতে এর নেতিবাচকভাবে প্রভাব পড়তে পারে। রাগ নিয়ন্ত্রণ করতেও ঘুম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

২. ঠাণ্ডা ঘর: জেনে অবাক হবেন যে, গরমের চেয়ে ঠাণ্ডায় স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগ তিন গুণ বেশি থাকে। এছাড়া ঠাণ্ডা ঘর আপনার মাথাকেও ঠাণ্ডা রাখে। তাই ঘরের তাপমাত্রা কখনো ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হতে দেবেন না।

৩. প্রতিদিন একমুঠো বাদাম: বাদাম, তেলের বীজ, মাছ- এগুলো মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ভালো। আপনার প্রতিদিন খাবারের তালিকায় রাখুন একমুঠো বাদাম, কুমড়ার বীজ বা ব্লুবেরি। তেলজাতীয় খাবার মস্তিষ্কের জন্য ভালো। এ ছাড়া চিনি কম খান। আর পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।

৪. গল্প শেষ থেকে শুরু করুন: একটি গল্প পড়া শেষ করে পুরো গল্পটা মনে রাখুন। এবার শুরু থেকে মনে না করে শেষ বা পেছন থেকে গল্পটা মনে করতে থাকুন। এই পন্থা মস্তিষ্কের কোষগুলোকে যথেষ্ট সচল রাখবে এবং শক্তিশালী করবে।

৫. যা পড়ছেন তা মনে চিত্রায়িত করুন: আপনি যখনই কিছু পড়বেন, অবশ্যই চেষ্টা করবেন, সেটি চোখের সামনে ‘চিত্রায়িত’ করতে। এতে সেটি সহজেই মনে থাকে। এভাবে কোনো কাজ বা কোনো নির্দেশনাকেও আপনি দৃশ্য বানিয়ে খুব সহজেই মাথার ভেতর ঢুকিয়ে ফেলতে পারেন।

৬. হাঁটাহাঁটি: নিয়মিত হাঁটাহাঁটি বা জগিং শরীরকে ভালো রাখার সঙ্গে সঙ্গে আপনার ব্রেনকেও সুস্থ রাখবে। সপ্তাহে দু-তিন দিন অন্তত ২০ মিনিট করে হাঁটলে বা জগিং করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

৭. মেডিটেশন: প্রতিদিন মেডিটেশনের জন্য সময় রাখুন। মেডিটেশন শুধু আপনার শরীরের জন্য উপকারী নয়, এটি আপনার মস্তিষ্কের জন্যও বেশ উপকারী। গবেষণায় দেখা যায়, মেডিটেশন মস্তিষ্কের গ্রে-ম্যাটার বাড়ানোর কাজে সহযোগিতা করে। আর মস্তিষ্কের এই গ্রে-ম্যাটার স্মৃতিশক্তির জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

৮. প্রতিদিনের একঘেয়ে অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসুন: মস্তিষ্ক যেন নির্জীব হয়ে না যায়, সে জন্য ব্রেনকে সব সময় নতুন কিছু শিখতে দিন। প্রতিদিনের রুটিন ভেঙে নতুন নতুন কাজ করার চেষ্টা করুন। মস্তিষ্ককে চ্যালেঞ্জ নিতে সাহায্য করুন। বলতে পারেন, আমি আপনার কাজে সৃজনশীল হতে বলছি।

৯. মস্তিষ্কের খাবার: অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যুক্ত খাদ্য যেমন রঙিন শাকসবজি, রঙিন ফলমূল স্মৃতিশক্তিতে সহায়তা করে বলে ধারণা করা হয়। আখরোটের ‘পলিফেনলস’ ব্রেনের স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও সামুদ্রিক মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, পালংশাক, গ্রিন-টি, অলিভ অয়েল, ইত্যাদি মস্তিষ্কের জন্য ভীষণ উপকারী।

১০. সামাজিকীকরণ: বিভিন্ন সামাজিক মিথস্ক্রিয়া প্রতিনিয়ত জটিল কগনিটিভ চ্যালেঞ্জ উপস্থাপন করে যা আপনার মস্তিষ্ককে সচল রেখে নতুন নতুন চিন্তা করতে উদ্দীপিত করে। আপনার পরিবারের সাথে, বন্ধুদের সাথে সন্তোষজনক সম্পর্ক গড়ে তুলুন।

আশা করি এই টিপসগুলো ফলো করলে আপনাকে আর স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির উপায় নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হবে না।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker