বুঝে পড়বে নাকী মুখস্ত করবে?

বর্তমান সময়ে ছাত্রছাত্রীদের একটা সাধারণ সংকটের রূপ নিয়ে দাড়িয়েছে পড়া মনে রাখার মেহানত। ছাত্রছাত্রীদের উপর কিছু চাপিয়ে দিলেই শিক্ষকের চাপ যেন চলে যায়৷ কিন্তু এই পড়ার পরিমান সেই শিক্ষার্থীর জন্য কখনো নেতিবাচক হয়ে উঠতে পারে। তাই এরকম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে একজন শিক্ষার্থী পড়া মনে রাখার সব থেকে কাজের উপায় হিসেবে বেছে নেয় মুখস্ত করা। কিন্তু পড়া বুঝে পড়বে নাকী মুখস্ত করবে?

ছোট বেলা থেকে নিশ্চই শুনে এসছো পড়া মুখস্ত করার থেকে বুঝে পড়া অধিক কার্যকরী। তবে এই এক কথা বার বার শুনে তোমাদের ভেতর এই কথাটার মর্মবোধ গেছে হাড়িয়ে। বুঝে পড়ার থেকে মুখস্ত বিদ্যা কখনই উত্তম হতে পারে না এটা তোমরা জানো, কিন্তু কাজের বেলায় প্রমাণ পাও উলটো তাই না? দেখা যায় বুঝে পড়ার থেকে মুখস্ত করে লাভবান অধিক ক্ষেত্রে হয়েছো। কিন্তু এখানে মুলত ঘটছে টা কি?

এর প্রধান করণ হচ্ছে সময়ের পড়া সময়ে শেষ না করা। শতকরা ৯০ ভাগ শিক্ষার্থী সারা বছরে পড়া শেষ না করে পরিক্ষার কিছুদিন আগে এসে শুরু করে পড়াশোনা। অর্থাৎ হাতে তখন একটুও সময় থাকে না। তাই তার মুখস্ত বিদ্যার পথকে বেছে নেয় তখন। যেহেতু এটা সাময়ীক সময়ের পরিক্ষা প্রস্তুতি তাই মুখস্ত করে পার পেয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু পরবর্তী পরিক্ষায় আবারও একই বিষয় মুখস্থ করতে হয়। অথচ যদি বুঝে পড়তে পরবর্তী পরিক্ষায় মুখস্থ না করে চোখ বুলিয়ে গেলেই দারুন কিছু করতে পারতে। সাময়িক একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে মুখস্ত বিদ্যাকে এতটা প্রাধান্য দেওয়া সম্পূর্ণ অনুচিত।

এবারে কি বুঝেছো বুঝে পড়বে নাকী মুখস্ত করবে? অবশ্যই বুঝে পড়বে। এখনো যদি মনে সংসয় থাকে তবে বন্ধুরা মিলে একটা পরিক্ষার আয়োজন করো নিজের বাড়িতেই। আর সেখানে তোমরা দুটো দলে বিভক্ত হয়ে যাও। একটি দল বুঝে পড়বে এবং অপর দল যথারীতি মুখস করবে। অতঃপর পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করো আর ফলাফল দেখো। যদি পড়াটা একবার বুঝতে পারো তা তোমার মস্তিষ্কে গেঁথে যাবে আর অনুভব করতে পারবে সেই পড়া থেকে প্রাপ্ত সুপ্ত জ্ঞ্যান সম্পর্কে।

তাই পড়াশোনাকে উপভোগ করতে বুঝে পড়ার কোনো বিকল্প নেই। এই পদ্ধতি পড়াকে অনেক সহজ করে দেয়। তাই পড়াশোনা হয়ে ওঠে এখন শিক্ষার্থীর কাছে অধিক আনন্দদায়ক বস্তু। আশা করি বুঝতে পেরেছো বুঝে পড়া কতটা লাভজনক।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker