শিশুর নাম রাখার ক্ষেত্রে ইসলাম কী নির্দেশনা দিয়েছে

পৃথিবীতে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তাকে সম্বোধন করে ডাকার জন্য যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়, তাই হলো ইসম বা নাম। নামের আরবি হলো ‘ইসম’। ইসম অর্থ চিহ্ন, আলামত, পরিচিতি, লক্ষণ, উন্নয়ন, বর্ধন, সম্মান, সুনাম, যশ, খ্যাতি ইত্যাদি। শিশুর নাম রাখার ক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী নাম রাখতে হবে। নাম রাখার ব্যাপারে উত্তম হচ্ছে-‘নবজাতক জন্মের সাত দিনের মধ্যেই সুন্দর ও অর্থবোধক নাম রাখা, আকিকা দেওয়া এবং মাথামুণ্ডন করা।

নবী (সা.) বলেছেন- ‘জন্মের সপ্তম দিন নবজাতকের নাম রাখো।’ (তিরমিজি) আবার কেউ আগে-পরে নাম রাখলেও কোনো ক্ষতি নেই। যদি কেউ জন্মের আগেও শিশুর নাম নির্ধারণ করে তাতেও কোনো বাধা নেই।’ (আবু দাউদ)

মানুষের পরিচয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক মাধ্যম হচ্ছে তার নাম। নবীজী (সা.) এ ব্যাপারে উম্মতকে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। ভালো নাম চিহ্নিত করার পাশাপাশি মন্দ ও অসুন্দর নাম রাখা থেকে বাঁচার জন্য সতর্ক করেছেন। আর যদি কেউ অসুন্দর নাম রাখে তাহলে তা শিঘ্রই পরিবর্তন করে ভালো নাম রাখার মাধ্যমে বাস্তব জীবনে এর আমলি নমুনা পেশ করেছেন।

অনেকেই ইসলামী নাম রাখতে গিয়ে অজ্ঞতাবশত এমনসব নাম নির্বাচন করে ফেলে যেগুলো আদৌ ইসলামী নামের অন্তর্ভুক্ত নয়। শব্দটি আরবী অথবা কোরআনের শব্দ হলেই নামটি ইসলামী হবে তাতো নয়। কোরআনে তো পৃথিবীর নিকৃষ্টতম কাফেরদের নাম উল্লেখ আছে। ইবলিস, ফেরাউন, হামান, কারুন, আবু লাহাব ইত্যাদি নাম তো কোরআনে আছে; তাই বলে কী এসব নামে নাম রাখা সমীচীন হবে? এজন্য এ বিষয়ে সঠিক নীতিমালা জানা জরুরী।

একজন মুসলিম শিশুর এমন নাম রাখা উচিত যা শোনার সাথে সাথে বোঝা যায় এটা মুসলিম শিশুর নাম। অনেক সময় দেখা যায় এমন নাম রাখা হয় যা শুনে বোঝাই যায় না এটা কি মুসলিম শিশুর নাম না অন্য কোন ধর্মাবলম্বীর? আবার অনেক সময় ছেলে বা মেয়ের নামের মধ্যে পার্থক্য করা যায়না; যেমন কাজল, নিশাত, ময়না, টিংকু, শীতল, রীতা, অভি ইত্যাদি।

ইসলামে নবীদের নামে নাম রাখার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। হজরত রাসূলে কারীম (সা.) এর উপাধি ও উপনাম সর্বব্যাপারে পরিব্যাপ্ত ছিল। কেননা সব ধরনের নামই ব্যক্তি বা বস্তুর ওপরে এমনকি চরিত্রের ওপরও ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে।

সুন্দর নাম মন-মানসিকতার উপর বেশ প্রভাব ফেলে এবং মন্দ নামেরও কিছু না কিছু প্রভাব ব্যক্তির উপর থাকে। তাই শিশুর নাম রাখার ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। নামটা যেনো হয় ইসলামী, সুন্দর এবং ভাবগম্ভীর।

সন্তানের ভালো নাম রাখা পিতা-মাতার সর্বপ্রথম দায়িত্ব। আমরা এভাবেও বলতে পারি যে, পিতা-মাতার উপর সন্তানের সর্বপ্রথম হক হচ্ছে, তার জন্য সুন্দর একটি নাম নির্বাচন করা। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ও আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- সন্তানের সুন্দর নাম রাখা ও তার উত্তম তারবিয়াতের ব্যবস্থা করা বাবার উপর সন্তানের হক। -মুসনাদে বাযযার (আলবাহরুয যাখখার), হাদীস ৮৫৪০

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker