রহস্যময় নিষিদ্ধ দ্বীপ সেন্টিনেল, যেখানে গেলে কেউ বেঁচে ফেরে না

আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার যুগে পৃথিবীতে এমন জায়গা খুব কমই আছে যেখানে বিচরণ করেনি নগর সভ্যতার ভ্রমণ বিলাসী ও এডভেঞ্চার প্রেমী মানুষেরা। এমন কোনো স্থান সম্পর্কে শুনেছেন কখনো, যেখানে এখন পর্যন্ত কোনো সভ্য মানুষ পা রাখতে পারেনি। যেখানে বিশ্বের আনাচে কানাচে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় জীবনমান উন্নত হচ্ছে সেখানে এমনই এক স্থান আছে যা মানুষ আধুনিক প্রযুক্তি দিয়েও জয় করতে পারেনি। বলছি সেন্টিনেল দ্বীপের কথা। বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অন্তর্গত প্রবাল প্রাচীরে ঘেরা রহস্যময় নিষিদ্ধ দ্বীপ সেন্টিনেল। দ্বীপটিতে বসবাসকারী অধিবাসীদের বলা হয় সেন্টিনেলিজ।

আন্দাবর-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ার থেকে সেন্টিনেল দ্বীপের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। দ্বীপটির আয়তন ৭২ বর্গকিলোমিটার এবং কাগজে কলমে এটির মালিকানা ভারতের। বহুবার চেষ্টা করেও দ্বীপটি সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতে পারেনি স্বয়ং ভারত সরকার।

কথিত আছে, সেন্টিনেল দ্বীপের উপজাতির মানুষজন নরমাংসভোজী। কোনো বহিরাগত যদি একবার সেন্টিনেলিজদের সীমানার কাছাকাছি যায় তাহলে তার শেষ পরিণতি মৃত্যু। দ্বীপের দুর্গম প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে উপজাতিদের এমন হিংস্র আচরণ বলে ধারণা করা হয়।

দ্বীপটির বাসিন্দারা তাদের ভূমিতে বাইরের জগতের কারো আগমন মোটেও সহ্য করতে পারেনা। কেউ ঢোকার চেষ্টা করলেই সম্মুখীন হতে হয় সেখানকার অধিবাসীদের তীর, ধনুক, বল্লা আর পাথরের আঘাতের। বাইরের মানুষের কৌতূহলী দৃষ্টি ও জানার আগ্রহকে উপেক্ষা করে হাজার হাজার বছর ধরে তারা বজায় রেখেছে নিজেদের স্বাতন্ত্র্য। তাদের সীমানায়, তাদের জীবনে উঁকি দেওয়ার অধিকার আজও কোনা মানুষ, জাতি বা দেশ অর্জন করতে পারেনি। আর তাদের মধ্যেও কোনো আগ্রহ নেই পৃথিবীর অন্য অংশ সম্পর্কে জানার।

নৃতাত্ত্বিকদের মতে সেন্টিনেলিরা ৬০ হাজার বছর ধরে দ্বীপটিতে বসবাস করছে। সেই হিসেবে সেন্টিনেলিজরাই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন একক নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী।

এই রহস্যময় নিষিদ্ধ দ্বীপ সেন্টিনেল এর রয়েছে ঘন সবুজ বনভূমি, বাসিন্দাদের জন্য ছোট ছোট কুঁড়েঘর। এদের পেশা মূলত শিকার করা। মৃত পশুপাখির মাংস এবং ফলমূল তাদের খাবার। তবে অদ্ভুত ব্যাপার হলো তারা এখনো আগুনের ব্যবহার জানে না, চাষাবাদ করতেও জানে না। বস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে গাছের ছাল-বাকল এবং পশুর চামড়া।

নৌকা বা হেলিকপ্টার থেকে বছরের পর বছর নজর রেখে সেন্টিনেলের মানুষ সম্পর্কে খুব অল্পই ধারণা করতে পেরেছেন নৃবিজ্ঞানীরা। সেন্টিনেলদের মাঝে কোনো ধর্মের আবির্ভাবের লক্ষণ লক্ষ্য করা যায়নি। ২০১৮ সালের ১৬ নভেম্বর মার্কিন ধর্মযাজক জন এলেন চাও বিনা অনুমতিতে সেন্টিনেল দ্বীপে খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচার করার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রবেশ করেন। পরে অ্যালেন চাওকে তীর ছুড়ে হত্যা করা হয়। এদের ভাষার নাম দেওয়া হয়েছে সেন্টিনেলি ভাষা।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker