রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে অজানা এক তথ্য

বিশ্ব সেরা কবি, লেখক, সংগীতশিল্পী, চিত্রশিল্পী, সুরকার, গীতিকার, দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন ভারতের উজ্জ্বল নক্ষত্র। বিশাল সাহিত্য কীর্তির জন্য বহু বাঙালির রক্তস্রোতে আজও মিশে আছেন তিনি। নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্ত প্রথম এশিয়ান রবি ঠাকুর ২ হাজারেরও বেশি গান রচনা করেছেন। তাঁর লেখা প্রচুর কবিতা, গল্প, নাটক এবং উপন্যাস যা পড়ে শেষ করা সম্ভব নয়। বিশ্ববরেণ্য করে তুলতে রবীন্দ্রনাথকে ভূষিত করা হয়েছিল ‘বিশ্বকবি’ বা ‘কবিগুরু’ নামে। কিন্তু এই বিশ্বকবির ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে আপনি কতোটুকু জানেন? আমি আজ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে অজানা এমনসব তথ্য তুলে ধরবো যা হয়তো আপনি আগে জানতেন না।

১. রবীন্দ্রনাথের পোশাক

জোব্বা ঘরনার পোশাক পরতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যখন বাড়িতে থাকতেন তখন বেশিরভাগ সময় পরতেন গেরুয়া বা সাদা রঙের জোব্বা আর পায়জামা। উপাসনা বা সভা সমিতিতে যাওয়ার সময় জোব্বার সঙ্গে সাদা ধুতি, জামা ও চাদর পরতেন। ঋতু উৎসবে ঋতু অনুযায়ী নানা রঙের রেশমি উত্তরীয় নেওয়া ছিল তাঁর শখ। যেমন বর্ষায় কালো বা লাল, শরতে সোনালি, বসন্তে বাসন্তী।

২. রোজকার রুটিন

নিয়ম মেনে চলতে পছন্দ করতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর দিন শুরু হতো ভোর ৪টায়। গোসল সেরে পূজা করতেন। এরপর তিনি সকাল ৭টা পর্যন্ত একটানা লিখতেন। সকালের নাশতা সেরে আবারো লেখা শুরু করতেন। লেখার ফাঁকে ফাঁকে চলতো চা বা কফি পান। বেলা ১১টা পর্যন্ত লিখে আবার গোসল করতেন। তারপর দুপুরের খাবার খেতেন। খাওয়ার পর তিনি কখনো বিশ্রাম বা ঘুমিয়ে সময় পার করতেন না। পত্রিকা বা বইয়ের পাতা উল্টিয়ে সময় কাটাতেন। বিকালের নাশতা খেতেন ৪টায়, চা এর সঙ্গে নোনতা কিছু। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সারতেন রাতের খাবার। রাতের খাবারের পর একটানা রাত ১২টা পর্যন্ত লিখতেন বা পড়তেন।এরপর ঘুমিয়ে যেতেন। এই ছিল তাঁর রুটিন।

৩. হোমিওপ্যাথিতে বিশ্বাসী

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় রবীন্দ্রনাথের যথেষ্ট বিশ্বাস ছিল। তিনি নিজের জমিদারির প্রজাদের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা দিয়েছেন। নিজেও এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিতেন। ভারতে ‘হেলথ কো-অপারেটিভ’ তৈরি করে চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থা রবিঠাকুরই প্রথম চালু করেন।

৪. বল ডান্সে পারদর্শী

শুনতে অবাক লাগলেও চমৎকার ‘বল ডান্স’ এ পারদর্শী ছিলেন কবি গুরু। খুড়তুতো দিদি সত্যেন্দ্রবালা ঠাকুরের কাছ থেকে এই নাচ শিখেছিলেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ নিজে তার নৃত্যশৈলীকে বলতেন ‘ভাবনৃত্য’। মণিপুরি, কথাকলি, ভরতনাট্টম, শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিনাচ, জাভার নৃত্যভঙ্গি- নানা দেশের নানা ধরনের নৃত্যশৈলী দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজস্ব নৃত্যশৈলীর জন্ম দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৫. অভিনেতা রবীন্দ্রনাথ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম অভিনয় করেন ১৮৭৭ সালে। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘এমন কর্ম আর করব না’ নাটকে তিনি অলীকবাবুর ভূমিকায় মঞ্চে উঠেছিলেন। তখন তার বয়স ১৬ বছর। নিজের লেখা নাটকে তিনি প্রথম অভিনয় করেন ‘বাল্মিকী প্রতিভা’য় বাল্মিকীর ভূমিকায়। নাটকটি জোড়াসাঁকোয় ১৮৮১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তে মঞ্চস্থ হয়। অভিনয়ের জন্যে রবীন্দ্রনাথকে মঞ্চে মোট ১০১ বার উঠতে হয়েছিল। তার অভিনয় দেখে নাট্যাচার্য শিশিরকুমার ভাদুড়ি বলেছিলেন, ‘রবীন্দ্রনাথই দেশের শ্রেষ্ঠ অভিনেতা।’

৬. বৃক্ষপ্রেমী রবীন্দ্রনাথ

প্রচন্ড বৃক্ষপ্রেমী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তার গানে, কবিতায় ছড়িয়ে আছে অসংখ্য উদ্ভিদ আর ফুলের নাম। শুধু কাব্যেই উল্লেখ রয়েছে ১০৮টি গাছ ও ফুলের নাম। এর মধ্যে আছে বেশ কিছু বিদেশি ফুলের নাম যা তিনি বাংলায় নাম দিয়েছিলেন। অগ্নিশিখা, তারাঝরা, নীলমণিলতা, বাসন্তী, বনপুলক, এই নামগুলো তারই দেওয়া।

৭. জাতীয় সঙ্গীত রচনা

রবীন্দ্রনাথই একমাত্র কবি যিনি দুই দেশের জন্য জাতীয় সঙ্গীত লিখেছেন। ‘জনগনমন’ ভারতের জাতীয় সঙ্গীত। ‘আমার সোনার বাংলা’ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। অনেকে আবার দাবি করেন শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীতও রবীন্দ্রনাথের রচিত একটি বাংলা গানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা, গল্প, উপন্যাস তো অনেক পড়েছেন। মুগ্ধ হয়েছেন তার গানে। তবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কে অজানা এই বিষয়গুলো কি আগে জানতেন আপনি?

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker