বিদ্যুতের জন্য মমতাজের বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছে

সারাদেশে চলমান লোডশেডিং নিয়ে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে শোনা যাচ্ছে বিদ্যুতের জন্য মমতাজের বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছে। কেনো তাঁর বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছে? কারণ মমতাজ সংসদে বলেছিলেন- বাংলাদেশে বিদ্যুৎ এর এমন অবস্থা হবে যে, ফেরিওয়ালারা যেমন জিনিসপত্র বিক্রি করে ঠিক তেমনি করে বিদ্যুৎ বিক্রি হবে। কিন্তু এখন দেশে বিদ্যুৎ সংকট শুরু হলে মমতাজের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তীব্র নিন্দা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৬ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে ফেসবুক লাইভে আসেন মানিকগঞ্জ-২ (সিংগাইর-হরিরামপুর ও সদর) আসনের সংসদ সদস্য মমতাজ বেগম। সবাইকে ধৈর্য্য ধারণ করতে বলেছেন আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য। সেই সাথে বিদ্যুৎ নিয়ে তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার জবাব দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, “আজকে যে কথাটা বলার জন্য লাইভে এসেছি। সারা দেশের মানুষ সাময়িক একটা কষ্টের মধ্যে পড়েছি, সেটা হলো- বিদ্যুৎ। এ বিদ্যুৎ নিয়ে যেমন কষ্ট আছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবে নানা ধরনের কথা, আলোচনা-সমালোচনা ও প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। যেহেতু আমি এমপি, আমার এলাকায় কী কী কাজ করেছি, কী কাজ করা বাকি আছে, সেগুলো বলার একটি জায়গা হলো সংসদ। সংসদে আমি অনেক বক্তব্য দেই। তার দু’একটি কথা ধরে অনেকেই এটার সমালোচনার ঝড় তুলেছেন, এই কষ্টের মধ্যে। কারণ বিদ্যুৎ থাকছে না, বিদ্যুতের কষ্টটা সবাই পাচ্ছি, সেটা কম-বেশি। সবার ঘরেই আজকে এ সমস্যা আছে। মমতাজ বলছেন, আমি সংসদে যা বলেছিলাম তা তো ভুল বলিনি। তখন আমার গ্রামের ৩০ ভাগ মানুষের বাসায় বিদ্যুৎ ছিল। আমি এখানে দায়িত্ব নেওয়ার পর শতভাগ ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছি।”

সংসদ সদস্য মমতাজ বলেন, “এটা সাময়িক সমস্যা। আপনারা জানেন, বিশ্বের কী অবস্থা। কিছুদিন আগে করোনা মহামারি গেল। তারপরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আমাদের অনেক ক্ষতির মধ্যে ফেলেছে। বড় বড় দেশও হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশ তো ছোট্ট একটা দেশ। সেখানে সরকার চেষ্টা করছে, আমরাও চেষ্টা করছি। তারপরও আমাদের এই সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। আমি বলবো- সেটা যেন আমরা ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারি।”

আওয়ামী লীগের এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘সরকার কিন্তু চেষ্টা করছে। আপনারা জানেন, গতকালও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী এসব নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীও কথা বলেছেন। সংসদে আলোচনা হচ্ছে। যে সমস্যাটা এ মুহূর্তে আছে, এটা সাময়িক। সরকার চেষ্টা করছে সাময়িক এ সমস্যা কাটিয়ে আমরা যেন আগামীতে বিদ্যুতের একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে পারি।’

মমতাজ বেগম আরও বলেন, ‘গ্রামে গেলে অনেকেই বলে, আপা আর কিছু চাই না। আমাদের বিদ্যুতের লাইন দেন, মিটার দেন। মিটারের অভাবে বিদ্যুৎ পাচ্ছি না।’ এই যে একটা সংকট ছিল, তখন সেটা কিন্তু আমরা সমাধান করেছি। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। মানুষ তখন খুশি হয়েছিল। সেজন্য সংসদে বলেছিলাম, মানুষ বিদ্যুৎ চাইত। একসময় এ চাওয়ার ব্যাপারটা আর থাকবে না। সরকার যেভাবে বিদ্যুতের লাইন দিচ্ছে, উৎপাদন করছে, ঘরে ঘরে মিটার পৌঁছে দিচ্ছে। এখন কিন্তু সত্যিকার অর্থে গ্রামে গেলে কেউ বলে না- ‘আপা, দুইটা মিটার দেন, পাঁচটা মিটার দেন।’ মিটার দেওয়ার জায়গা আসলেও খুঁজে পাওয়া যায় না। এটাই কিন্তু বাস্তবতা। আর সেই কথাটাই সংসদে আমি বলেছিলাম। সেটার ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে, ভুলভাবে উপস্থাপন করছেন অনেকেই। অসাধু কিছু লোকজন খামোখাই দুটো বাজে কথা ফেসবুক-ইউটিউবে বলার চেষ্টা করছেন।’

মমতাজ বলেন, ‘ফেসবুকে ঢুকে দেখি একজন বলছে, বিদ্যুতের জন্য মমতাজের বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছে। কেন? বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে?’ বলেন, ‘এই প্রোপাগান্ডা, এই মিথ্যাচার, আপনাদের বিবেককে কি একটুও নাড়া দেয় না? শুধু শুধু একটা মানুষের বিরুদ্ধে এই রকম মিথ্যাচার আমরা কেন করছি?’

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker