সরকারের আয় বাড়াতে মানুষের ওপর করের জাল

“আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের আয় বাড়াতে মানুষের ওপর করের জাল বিস্তার করবে এবং জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়বে,” এমনটাই দাবি করছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। শুক্রবার (২ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলা হয়েছে।

যার ফলে প্রায় সব খাতেই আগের চেয়ে বেশি কর দিতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত মানুষের আয় বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাড়েনি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পর্যাপ্ত সুযোগ। এমনকি শিল্পের সুরক্ষার পরিধি কমেছে।

প্রতিক্রিয়ায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিবৃতিদাতারা হলেন- কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাম জোটের কেন্দ্রীয় নেতা ও সিপিবির সভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ, বাসদের (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি হামিদুল হক।

বিবৃতিতে বাম জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকার ঘাটতি নিয়ে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ হাজার কোটি টাকার বড় বাজেট দেওয়া হয়েছে। এটি একটি গতানুগতিক ধনী-তোষণ ও গরিব-শোষণের বাজেট। এতে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো যেমন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে বরাদ্দ তেমন বাড়ানো হয়নি। আইএমএফের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী ভ্যাট ও করের জাল বিস্তৃত করেছে। এর ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তেই থাকবে এবং জনগণের দুর্দশা ও দুর্ভোগের আর সীমা থাকবে না। করযোগ্য আয় না থাকলেও দুইহাজার টাকা কর দিতে হবে। এটিকে বলা যায় মরার ওপর খাড়ার ঘা।

এই জোটের নেতারা আরো বলেন, ‘এবার বাজেটে ঘাটতি মেটাতে ব্যক্তিনির্ভরতা বেড়েছে। প্রযুক্তিকে যুক্ত করে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে মাত্র ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ অথচ ছাত্রসমাজের বরাবরই দাবি ছিল ২৫ শতাংশ। স্বাস্থ্য খাতও ৫ শতাংশের ঘর অতিক্রম করবে না। কৃষি খাতের বাজেট অবহেলিত হয়েছে, বরাদ্দ কমেছে। জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে থাকলেও বাংলাদেশের বাজেটে পরিবেশকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য পেশকৃত বাজেটে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ের যে হিসাব দেখানো হয়েছে, তার বড় একটি অংশই ব্যয় হবে মন্ত্রী, এমপি, আমলাদের বেতন, আরাম-আয়েশ বিলাসে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আইএমএফ থেকে শর্তযুক্ত ঋণ নিয়ে হাসিনা সরকার এই ঋণের বোঝা জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। বাম জোটের নেতারা এই বাজেট সংশোধন করে সামরিক খাতসহ অনুন্নয়নখাতে বরাদ্দ কমিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ কল্যাণমূলক সকল খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker