রাজনৈতিক ঝড় ধেয়ে আসছে: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমার ভালো লাগে। এই যে মাঝে মাঝে মুখ ফসকে কিংবা নিজের অজান্তেই সত্যটা বলে ফেলেন। যেমন গত শনিবার (১৩ মে) পল্টনের এক সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ঝড় আসছে। সমুদ্র থেকে উত্তাল ঢেউ ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের দিকে। আজ শুধু প্রাকৃতিক ঝড় আসছে, সেটি মনে করার কোনো কারণ নেই। রাজনৈতিক ঝড় ধেয়ে আসছে এবার।’ মির্জা ফখরুল যখন ‘ঝড় আসছে’ বলে উচ্ছ্বাস করছিলেন তখন দেশের মানুষ ছিল উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত, আতঙ্কিত। উপকূলবাসী তাদের প্রিয় আপন ঠিকানা ছেড়ে ঠাঁই নিয়েছিল আশ্রয় কেন্দ্রে।

সরকারবিরোধী আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নিতে ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা ও মহানগরে চার দিনের বিক্ষোভ সমাবেশের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশ থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ সময় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিতেই তিনি ঝড় আসার কথা বলেছেন। উত্তাল সমুদ্র থেকে ধেয়ে আসছে এই বাংলাদেশের বুকে। তিনি প্রাকৃতিক ঝড় নয় এবার রাজনৈতিক ঝড়ের আভাস দিলেন। সরকারকে পদত্যাগ করতেই হবে- এটাই এক দফা এক দাবি। নইলে যে রাজনৈতিক ঝড় ধেয়ে আসছে তা সব মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, আমাদের এই আন্দোলন বিএনপিকে ক্ষমতায় নেওয়ার জন্য নয়। আমাদের এই আন্দোলন জনগণকে সাথে নিয়ে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য। গণতান্ত্রিক উপায়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে এই সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। তিনি আরো বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য, নিম্ন আদালতে আবার আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ, গায়েবি মামলা দিয়ে নির্বিচারে এতো গ্রেফতার, এতো এতো মিথ্যা মামলা, পুলিশ হয়রানি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুতের লোডশেডিং, আওয়ামী সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং ১০ দফা দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হবে। নতুন এই কর্মসূচি অনুযায়ী চার দিনই ঢাকা মহানগরে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে।

বিএনপি মহাসচিব এরপর আরো বলেন যে, এই সরকার দুর্নীতির মাধ্যমে শুধু নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধি করছে। মানুষের জন্য কোনো কিছুই করেনি। আমাদের পকেটের টাকা কেটে নিয়ে তারা বিদেশ যাচ্ছে। ওনারা কি দেশের জনগণের জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন? না তো। ওনারা নিজেদের জন্য, আর শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সফল হননি। তিনি বলেন, দেশ-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আওয়ামী লীগ ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল। এই দাবিতে পিটিয়ে মানুষ পর্যন্ত হত্যা করেছিল এই আওয়ামী লীগ।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker