বাংলাদেশের অমীমাংসিত রহস্যময় ভুতুড়ে স্থান

আধুনিক বিশ্ব ভুতে বিশ্বাস করে না। কিন্তু আপনি যদি ইসলাম ধর্মের অনুসারী হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে জ্বিনে বিশ্বাস করতে হবে। আপাতত এই জ্বিনকেই আমরা ভুত বলে চালিয়ে দিই। অনেকের জীবনেই ভৌতিক কোন না কোন ঘটনার অভিজ্ঞতা রয়েছে! পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই ছড়িয়ে রয়েছে ভূতুড়ে স্থান। আর ভূতুড়ে জায়গা বলতে ‘ক্লাব ৯৯’ বা ‘কিউবান হাউজ’ এর কথা সবারই মনে পড়ে। কিন্তু আমাদের দেশেও এমন কিছু স্থান রয়েছে যেগুলো লোকমুখে ভৌতিক স্থানের তকমা পেয়েছে। যেসব স্থান সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই অজানা। নিচে বাংলাদেশের অমীমাংসিত রহস্যময় ভুতুড়ে স্থান দেওয়া হলো:

১. বগা লেক

কেওকারাডং এর আগে রূপসি বগা লেক। বম ভাষায় বগা মানে ড্রাগন। বমদের রূপকথা অনুযায়ী অনেক আগে এই পাহাড়ে এক ড্রাগন বাস করতো। ছোট ছোট বাচ্চাদের ধরে খেয়ে ফেলতো। গ্রামের লোকেরা ড্রাগনকে হত্যা করলে তার মুখ থেকে আগুন আর প্রচন্ড শব্দ হয়ে পাহাড় বিস্ফোরিত হয়। রুপকথার ধরন শুনে মনে হয়, এটা একটা আগ্নেয়গীরির অগ্ন্যুতপাত। উপজেলা পরিষদের লাগানো সাইনবোর্ডে সরকারী ভাবে এই রহস্যের কথা লেখা। এখনো এর গভীরতা কেউ বলতে পারে না। ইকো মিটারে ১৫০+ পাওয়া গেছে। প্রতিবছর রহস্যময় ভাবে বগা লেকের পানির রঙ কয়েকবার পাল্টে যায়। যদিও কোন ঝর্না নেই তবুও লেকের পানি চেঞ্জ হলে আশপাশের লেকের পানিও চেঞ্জ হয়। হয়তো আন্ডার গ্রাউন্ড রিভার থাকতে পারে। পুরোটাই অমিমাংসিত রহস্য।

২. চলনবিল

ভৌতিক স্থানের বিচারে শোনা যায় চলনবিলের কথা। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত সবচেয়ে বড় বিল চলনবিল; নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা এই তিন জেলা জুড়ে যার বিস্তৃতি। আমাদের এই ভূতুড়ে কাহিনীর মূলবিন্দু আপাতত সিরাজগঞ্জ। আরো ভেঙ্গে বললে তাড়াস উপজেলা। শোনা যায়, চলনবিলের এই এলাকায় অনেক আগে একজন জমিদারের বাস ছিল। এই জমিদার অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। হঠাৎ করে একদিন রাতে জমিদার মারা গেলে সেই রাতের ভেতরেই সেখানে রাতারাতি তিনটি মন্দির গড়ে ওঠে বলে শোনা যায়, যার একটি আবার পরদিনই নিজ থেকে ভেঙ্গে পড়ে। এই তিনটি মন্দির ও মধ্যবর্তী বিলের এলাকা ভূতুড়ে বলে প্রচলিত। এছাড়াও চলনবিলে জ্বীনের প্রভাব আছে বলেও বিশ্বাস করা হয়। বিশেষ করে রাতের বেলা চলনবিল পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকেই জ্বীনের আছরের শিকার হয়েছেন বলে শোনা যায়। এমনকি অনেক পথিকও অশরীরির উপস্থিতি আঁচ করতে পেরেছেন বলে জনশ্রুতি আছে।

৩. ফয়েস লেক

সৌন্দর্য ও বিনোদনের জন্য ফয়েস লেক একটি প্রসিদ্ধ নাম। তবে এর নজরকাড়া সৌন্দর্যের পাশাপাশি রয়েছে নানান রকম গল্প। প্রায়ই শোনা যায় এখানে সাদা ও কালো পোশাক পরিহিত দুই রহস্যময় নারী ঘোরাফেরা করে। স্থানীয় মানুষের মতে, ফয়েস লেকে এই দুজন নারীর মৃত্যু হয়; কিন্তু তাদের অতৃপ্ত আত্মা লেক ছেড়ে যায়নি এখনো। লেকের পুরনো পাশটাতে তারা বাস করছে কয়েক শতাব্দী ধরে। কালো পোশাক পরিহিত নারীটি হুটহাট সন্ধ্যার সময় লেকের পাশে হন্টনরত মানুষের সামনে এসে ভয় দেখায়। ধারণা করা হয় জীবদ্দশায় কালো পোশাক পরিহিতা নারীটি ভালো মানুষ ছিল না। সাদা পোশাক পরিহিতা নারীটি সেই তুলনায় বেশ ভালোই বলতে হয়। কেননা কালো পোশাক পরিহিতার মাধ্যমে বিপদে পড়তে যাওয়ার আগে সে মাঝে মাঝে মানুষকে সাবধান করে দিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত এই ভুতুড়ে কালো ছায়ার সম্মুখীন হতে হয়েছে অনেককেই! তবে এসব গল্পের এখন পর্যন্ত কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি কিন্তু প্রচলিত ভুতুড়ে গল্পগুলো ফয়েস লেককে করেছে আরো রহস্যময়।

৪.চিকনকালা (নিফিউ পাড়া)

বাংলাদেশের অমীমাংসিত রহস্যময় ভুতুড়ে স্থান এর তালিকয় মুরং গ্রামটা অন্যতম। এটি বাংলাদেশ-বার্মা নো ম্যানস ল্যান্ডে। এখানে মৃত চিতাবাঘের ছাল দেখতে পাওয়া যায়। দুপুরে বুনো দাঁতালো শুকর, ময়ুর দেখা যায়। দিনের বেলাতেই বার্কিং ডিয়ার আর ভাল্লুকের ডাক শোনা যায়। কাছের মুরং গ্রাম চিকনকালার লোকেরা বলে প্রতিবছর নাকি (দিনটা নির্দিষ্ট না) হঠাত কোন জানান না দিয়ে বনের ভিতর রহস্যময় ধুপ ধাপ আওয়াজ আসে। শিকারীরা আওয়াজটা শুনলেই সবাই দৌড়ে বন থেকে পালিয়ে আসে। কিন্তু প্রতিবছরেই কয়েকজন পিছে পড়ে যায়। যারা পিছে পড়ে তারা আর কখনো ফিরে আসে না। কয়েকদিন পরে বনে তাদের মৃত দেহ পাওয়া যায়। শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। শুধু চেহারায় ভয়ঙ্কর আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট থাকে।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker