ট্রেন্ডিং

ডলার সংকটে কেনা যাচ্ছে না রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা

ডলার সংকটে কয়লা আমদানি বন্ধ থাকার কারণে গত ২৩শে এপ্রিল থেকে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রামপালে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মধ্যে একটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছিল। তবে ডলার সংকটের মধ্যে কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে উৎপাদন শুরুর ২৭ দিনের মাথায় পর্যাপ্ত কয়লা না থাকায় গত ১৪ই জানুয়ারি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর কয়লা সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় এক মাসের মাথায় আবার উৎপাদনে ফেরে কেন্দ্রটি। তারপরও সংশয় ছিল কয়লা আমদানি অব্যাহত থাকবে কিনা। প্রতিদিন কেন্দ্রটির একটি ইউনিট চালু রাখতে প্রয়োজন পাঁচ হাজার টন কয়লা।

এপ্রিল মাসে আবারও কয়লা সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। এই কেন্দ্রের জন্যও কয়লা আমদানি করা হয় ইন্দোনেশিয়া থেকে।

কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট থেকে গড়ে প্রতিদিন ৫৬০-৫৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। এর মধ্যে সাড়ে ৪০০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে এবং বাকিটা খুলনা অঞ্চলে সরবরাহ করা হতো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহেও।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ডিজিএম আনোয়ারুল আজিম রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা পেমেন্ট করতে পারছি না, এজন্য আমরা কয়লা পাচ্ছি না। নিয়মিত উৎপাদনের জন্য আমাদের প্রায় পাঁচ হাজার মেট্টিক টন কয়লা লাগে। কয়লা না থাকায় কেন্দ্রটি এখন বন্ধ রয়েছে।”

কয়লা সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের মজুদ কয়লা ছিল। এটা দিয়েই আমরা চলছিলাম। আমাদের পরিকল্পনা ছিল এর মধ্যে পরবর্তী শিপমেন্ট চলে এলে আমরা প্রবলেমে পড়ব না।”

“পেমেন্টের বিষয়ে আমরা কয়েক দফা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কথাও বলেছি। এখনও যোগাযোগ করছি। কিন্তু ডলার সংকটের কারণে তারা (বাংলাদেশ ব্যাংক) পেমেন্টটা করতে পারছে না।“

ডিজিএম আরও বলেন, “ইন্দোনেশিয়া থেকে আমাদের কয়লা আসে। সেখানে বন্দরে জাহাজ লোড দেওয়া আছে। শুধু পেমেন্টের কারণে কয়লা আসছে না। ঋণপত্র পাওয়া নিশ্চিত হলে জাহাজটি বাংলাদেশের পথে রওনা হবে।”

ডলার সংকটে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে সেটি সহসা সমাধানের আশাও দেখা যাচ্ছে। এই সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ খাতের উপর। কারণ, কয়লা হোক আর তেল হোক- বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাঁচামাল জোগাতে প্রয়োজন ডলার।

বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএম খোরশেদুল আলম বলছেন, কয়লা সমস্যার সমাধানের চেষ্টা নিশ্চয়ই করছে সরকার।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker