খোলা স্থানে বর্জ্য, পরিণামে জলাবদ্ধতা

বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এদেশ আয়তনে বিশ্বে ৯২তম হলেও জনসংখ্যায় অষ্টম। দেশে মাথাপিছু বর্জ্য সৃষ্টির পরিমাণ ১৭০ কেজি, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েই চলছে। শহরাঞ্চলে বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ দেশের অন্যান্য স্থানের মধ্যে সর্বোচ্চ। বেশি উৎপাদন হয় গৃহস্থালির বর্জ্য, যার অধিকাংশই অপচনশীল প্লাস্টিক বর্জ্য। বাংলাদেশে ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রতিদিন মাথাপিছু ২২ গ্রাম প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদন হয়েছে। খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

বিভিন্ন আবাসিক এলাকার খোলা স্থানে বর্জ্য আনা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা কখনো পরিবেশ সম্মত নয়। এ বর্জ্য সঠিক ভাবে পরিশোধিত না করে পরিবেশে উন্মুক্তভাবে ফেলে দেয়া হচ্ছে। বর্জ্যের ৬০-৭০% সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে উন্মুক্তভাব খালে ফেলা হচ্ছে। ফলে ড্রেন ও খালের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ চট্টগ্রাম শহরের অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা ও ঢাকা, সিলেটসহ বিভিন্ন নগর অঞ্চলের জলাবদ্ধতা। জলাবদ্ধতার ফলে মানুষের জনজীবনে প্রভাব পড়ছে। বহু কষ্টে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে যা কখনো ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ শব্দের সাথে মানায় না। তাছাড়া উন্মুক্ত বর্জ্য থেকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস ও রোগ জীবাণু বায়ুতে মিশে মানুষের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতি করছে।এ ছাড়াও মাটি ও পানির মানের অবনতি, বায়ু দূষণ ও পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

আজকের তথ্য প্রযুক্তির যুগে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। দেরিতে হলেও ঢাকা সিটি করপোরেশন এক্ষেত্রে কিছুটা এগিয়ে গেছে। ২০৪১ সালের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ‘ গড়তে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। প্রকল্প চালু হলে ফেলে দেওয়া বর্জ্যই সম্পদে পরিণত হবে এমন আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আয়ের পাশাপাশি শহরও হবে পরিবেশবান্ধব।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে দৈনিক প্রায় ২১০০ টন আবর্জনা তৈরি হয়, যার ৬৮ শতাংশই গৃহস্থালির বর্জ্য। এ পরিমাণ বর্জ্য থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। জলাবদ্ধতা নামক অভিশাপ থেকে চট্টগ্রাম শহরকেও মুক্তি দেয়া সম্ভব। চট্টগ্রাম শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর আর টেকসই করতে বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। তাই যত দ্রুত সম্ভব এই প্রকল্পসমূহকে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত।

ভবিষ্যতের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়তে সঠিক ও টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অতীব জরুরি। কারণ বিশ্বের সব উন্নত দেশসমূহ বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও এর থেকে শক্তি উৎপাদন করছে। ফলে, একদিকে যেমন দেশের জনগণের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষা হচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশসমূহকে উন্নত করছে।

বর্জ্যকে সুষ্ঠু ব্যবহারের এখনই উপযুক্ত সময়। তাই কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এগিয়ে আসতে হবে। সর্বোপরি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থাকুন। আপনার এলাকায় এমন কর্মকাণ্ড দেখলে সবাই মিলে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করুন, যাতে প্রকৃতি ও প্রকৃতির জীবজগৎ ভালো থাকে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker