জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ১২৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ১২৪তম জন্মবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার ২৫ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ)। সারা দেশে নানা আয়োজনে উদযাপিত হবে ‘নজরুলজয়ন্তী’। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁর অন্তিম শয্যায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন অগণিত অনুরাগী। এবারের ১২৪তম নজরুলজয়ন্তীর প্রতিপাদ্য ‘অগ্নিবীণার শতবর্ষ : বঙ্গবন্ধুর চেতনায় শাণিতরূপ’।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, সাম্য ও মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কবি নজরুল যে অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতেন, তারই প্রতিফলন আমরা পাই জাতির পিতার সংগ্রাম ও কর্মে। আমি বিশ্বাস করি, নজরুলের রচনা আমাদের কর্ম, চিন্তা ও মননে সব কূপমণ্ডূকতা এবং প্রতিবন্ধকতা দূর করে একটি অসাম্প্রদায়িক, বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ, সুখী-সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।

শৈশব-কৈশোর-তারুণ্যের জীবনের সকল ধাপে সংগ্রাম করতে হয়েছে তাকে। জড়িয়েছিলেন নানা পেশায়। ১৯১৭ সালে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। অংশ নেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধেও। চোখের সামনে দেখা সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন তার লেখনীর মাধ্যমে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার কবিতা কোটি তরুণের রক্তে জ্বালায় স্ফুলিঙ্গ। তার আগমন ছিলো একজন বীরের মতো।

১৯২২ সালে ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটির মধ্য দিয়ে সারা ভারতের সমাজে সাড়া ফেলে দেন কাজী নজরুল ইসলাম। সে বছর ১২ আগস্ট নজরুল ধূমকেতু পত্রিকা প্রকাশ করেন। রাজনৈতিক কবিতা প্রকাশিত হওয়ায় ১৯২২ সালে পত্রিকাটির ৮ নভেম্বরের সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। একই বছরের ২৩ নভেম্বর তার যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং সেদিনই তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে কলকাতায় নেয়া হয়।

কাজী নজরুল ইসলাম মধ্যবয়সে পিকস্ ডিজিজে আক্রান্ত হন এবং বাকশক্তি হারান। এর ফলে আমৃত্যু তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হয়। ১৯৭২ সালে ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।

তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেন। ১৯৭৬ সালে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়া হয় এবং ‘একুশে পদক’ দেয়া হয়। সে বছরের ২৯ আগস্ট তিনি ইন্তেকাল করেন।

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম এই প্রাণপুরুষের নামের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ‘বিদ্রোহী কবি’, ‘প্রেমের কবি’, ‘সাম্যের কবি’সহ নানা অভিধা। সাহিত্যে তাঁর অবদান কখনও ভোলার মতো নয়। তাঁর মতো কবির দেখা আর কবে কে পাবে?

‘আমি চিরতরে দূরে চলে যাব, তবু আমারে দেব না ভুলিতে’-মনে অপার দুঃখ নিয়ে গেয়েছিলেন কবি নজরুল। তবে তার লেখা গান সত্যি হয়েছে। তাকে তো সত্যিই ভোলা যায় না। বাঙালির অস্তিত্বে মিশে আছেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কাজী নজরুলের ১২৪তম জন্মবার্ষিকী তে বিভিন্ন সংগঠন ও টিভি চ্যানেল নানান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker