উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো বন্ধ করুন

শব্দ দূষণকে বলা হয় নীরব ঘাতক। এই নিরব ঘাতক দূর্বিষহ করে তুলেছে জন-জীবন। বিশেষ করে ঢাকা শহরে শব্দ দূষণের বহু উৎস রয়েছে যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। গাড়ির হর্ন, নির্মাণকাজ, মাইকের ব্যবহার, শিল্পকারখানা কোনো ক্ষেত্রেই শব্দ দূষণ বিষয়ে যেসব নিয়ম রয়েছে তা মানা হচ্ছে না। শুধু ঢাকা নয় দেশের প্রায় সবখানেই কমবেশি শব্দ দূষণ হচ্ছে। শব্দ দূষণের উৎসগুলো আপনার আমার সকলের নাগালের মধ্যে। যেমন, বিয়ে বা গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানসহ নানা সামাজিক-রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো যেন একটা স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

দেশে বর্তমানে একটা চিত্র বেশি দেখা যায়।সেটা হলো রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নেতার জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী বা বিশেষ দিবসগুলোতে সারাদিন-রাত ধরে উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে শব্দ দূষণের মাত্রাকে বাড়িয়ে চলেছে। এসব বন্ধের প্রতিবাদ করতে কারও কি সাহস আছে? জানি, প্রতিবাদের জন্য একজনকেও পাওয়া যাবে না। শব্দ দূষণরোধে আমার আপনার প্রতিবাদই বা কেনো দরকার হবে? দেশে তো আইন রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে অন্য কথা। দেশে শব্দ দূষণ প্রতিরোধে আইন থাকলেও তার তেমন কোনো সঠিক প্রয়োগ নেই।

শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ অনুযায়ী, পুলিশের অনুমতি ছাড়া উচ্চস্বরে অনুষ্ঠান করা যাবে না। অনুমতি পেলেও সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টা এমন অনুষ্ঠান করা যাবে, যা আবার রাত ১০টার মধ্যেই শেষ করতে হবে। শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ এ এমন বিধান থাকলেও বাস্তবে এ আইনের তেমন কোথাও প্রয়োগ দেখা যায় না। রাজধানীসহ সারা দেশে গণহারে চলছে উচ্চস্বরে গানবাজনাসহ নানা অনুষ্ঠান। ফলে উচ্চ শব্দে মাইক বাজানো তে যে শব্দদূষণ হচ্ছে তাকে স্বাভাবিক মনে করছেন লোকজন।

মানুষ স্বাভাবিকভাবে সর্বোচ্চ ১০৫ ডেসিবল শব্দের তীব্রতা সহ্য করতে পারে। তীব্রতর শব্দে মানুষের শ্রুতি ক্ষমতা লোপ পেতে পারে। তাছাড়া অতিরিক্ত শব্দ স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, মানসিক অসুখের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এই অমানবিক ও নিয়ম বহির্ভূত কর্মকাণ্ড বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা উচিত। সরকারের যেমন এক্ষেত্রে সদিচ্ছা প্রয়োজন ঠিক তেমনি জনগণকে এই বিষয়ে আরো সচেতন করতে প্রিন্ট মিডিয়ার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন

Back to top button

Adblock Detected

Please consider supporting us by disabling your ad blocker